গোম্বাক / কেপং: মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুইটি পৃথক যৌথবাহিনীর অভিযানে প্রায় ৩০০ জন সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসী আটক করা হয়েছে, এর মধ্যে ৬১ জন বাংলাদেশি রয়েছে।
অভিযানগুলি সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়, যা রাজ্যে অবৈধ অভিবাসী ও বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
গোম্বাক এলাকায় ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজ্যের প্রথম সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পাসুকান গেরাকান আম (পিজিএ), রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ (পিডিআরএম), জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন), জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থা (এএডিকে) এবং সমাজকল্যাণ বিভাগ (জেকেএম) সহ মোট ১৭৭ জন কর্মকর্তা অংশ নেন।
এই অভিযানে ১৪৭ জন বিদেশি নাগরিক আটক করা হয়, যাদের বয়স ৬ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। আটককৃতদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, থাইল্যান্ড, নাইজেরিয়া এবং চীনের নাগরিক রয়েছেন।
সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক খাইরুল আমিনুস কামারুদ্দিন, যিনি ব্যক্তিগতভাবে অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, বলেন যে এই ধরনের সমন্বিত অভিযান সারা বছর জুড়ে অব্যাহত থাকবে। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপপরিচালক (ব্যবস্থাপনা) রেডমান সাফার এবং উপপরিচালক (নিয়ন্ত্রণ) মোহমদ খুসাইরি কামারুদ্দিন। আটককৃতদের সবাই পরবর্তী তদন্ত ও রিমান্ডের জন্য সেমেনিহ ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, কেপং এলাকার তামান ওয়াংসা পারমাই ও দেশা আমান পুরি এলাকায় বৃহস্পতিবার রাতে পরিচালিত ‘অপ সাপু’ অভিযানে আরও ১৪৬ জন সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসী আটক করা হয়েছে।
রাত ৮টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই অভিযানে দোকানঘরভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নাপিতের দোকান, মুদি দোকান, খাবারের দোকান ও গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্র, লক্ষ্য করা হয়। দোকানগুলোর উপরের তলাগুলোতে বিদেশি শ্রমিকরা বসবাস করছিল বলে জানা গেছে। অভিযানের সময় উপস্থিতি টের পেয়ে অনেকেই পালানোর চেষ্টা করলেও এলাকা ঘিরে রাখায় তা ব্যর্থ হয়।
কেপং অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে ৩২ জন নারী, দুইজন ছেলে শিশু ও দুইজন মেয়ে শিশু রয়েছে। নাগরিকত্ব অনুযায়ী আটকরা হলেন, মিয়ানমার (৬৪), বাংলাদেশ ( ৬১), ইন্দোনেশিয়া (১৬), ভারত (১৪), পাকিস্তান (৯), নেপাল (৫), থাইল্যান্ড (৩), শ্রীলঙ্কা (২), চীন (২) এবং নাইজেরিয়া (১)।
দুই অভিযানে আটককৃতদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।