বেইজিং, ৩ সেপ্টেম্বর : চীনে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইরান তার “সক্রিয় ও বহুপাক্ষিক” কূটনৈতিক নীতি স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।
তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের উপস্থিতি ও বক্তৃতা ইরানের গঠনমূলক ভূমিকা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে।
সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান দুটি বড় উদ্যোগ প্রস্তাব করেন: একটি শান্তি গঠন কমিটি গঠন, যা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সমন্বয়ে আঞ্চলিক সঙ্কট মোকাবিলা করবে।
একটি অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড সেটেলমেন্টস মেকানিজম প্রতিষ্ঠা, যা আর্থিক সহযোগিতা জোরদার করবে এবং অবৈধ নিষেধাজ্ঞার প্রভাব হ্রাস করবে।
SCO প্লাস বৈঠকে তিনি ইরানের ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন, বিশেষ করে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের প্রেক্ষাপটে। একইসঙ্গে তিনি ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সংলাপের প্রস্তুতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে সন্ত্রাস দমন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ শিল্প, টেকসই জ্বালানি ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্যসহ ২০টিরও বেশি নথি গৃহীত হয়।
চূড়ান্ত বিবৃতিতে SCO সদস্য রাষ্ট্রগুলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের “অযৌক্তিক যুদ্ধ”-এর নিন্দা জানিয়ে এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করে। এছাড়া তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের বাধ্যবাধকতা পুনর্ব্যক্ত করে এবং এর “ইচ্ছাকৃত পুনঃব্যাখ্যা”র বিরুদ্ধে সতর্ক করে।
সম্মেলনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, তাজিকিস্তান ও জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরানকে কৌশলগত অংশীদার আখ্যা দেন।রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান–ইউরেশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মুসলিম ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানান। তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান ইরান-তাজিকিস্তানের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দেন।জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বলে তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস প্রকাশ করেন।
গারিবাবাদি বলেন, SCO শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের সক্রিয় ভূমিকা ছিল তার কূটনৈতিক কৌশলের “জীবন্ত প্রতিচ্ছবি”, যা প্রমাণ করে ইরান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মঞ্চে গঠনমূলক অংশগ্রহণ চালিয়ে যেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।