মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে এক শ্রীলঙ্কান নারীকে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার অভিযোগে ৩৮ বছর বয়সী এক শ্রীলঙ্কান নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। একই অভিযানে ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে জানান, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সেলাঙ্গরের জেনজারোম এলাকায় তিনটি স্থানে অভিযান চালানো হয়। মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনবিরোধী বিভাগের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানটি একটি অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো হয়।
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করতেন এবং তাঁর অধীনে ওই শ্রীলঙ্কান নারী কাজ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, চাকরি ও ওয়ার্ক পারমিট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁকে মালয়েশিয়ায় আনা হলেও পরে কোনো বেতন না দিয়ে জোর করে কাজ করানো হয়। এছাড়া তাঁকে পর্যাপ্ত খাবার না দেওয়া, চলাফেরায় বাধা দেওয়া এবং ভয় দেখাতে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
মালয়েশিয়ার জাতীয় মানব পাচার সূচক নির্দেশিকা অনুযায়ী মূল্যায়নের পর অভিবাসন কর্মকর্তারা ওই নারীকে শোষণের শিকার হিসেবে শনাক্ত করেন এবং তাঁকে উদ্ধার করেন। তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির মানব পাচারবিরোধী আইনের আওতায় অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা আদেশের (আইপিও) আবেদন করা হয়েছে।
অভিযানে বৈধ ভ্রমণ নথি বা অভিবাসন পাস না থাকায় আরও ছয় শ্রীলঙ্কান নাগরিককে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও দুজন নারী। তাঁদের বয়স ২১ থেকে ৫১ বছরের মধ্যে।
গ্রেপ্তার হওয়া ৩৮ বছর বয়সী ব্যক্তি একজন মালয়েশীয় নাগরিককে বিয়ে করে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ভ্রমণ পাসে (এলটিএসভিপি) দেশটিতে অবস্থান করছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মানব পাচারবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইনেও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, শ্রম শোষণ, জোরপূর্বক শ্রম ও মানব পাচারের মতো অপরাধকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। তদন্তে শোষণের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার করে সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শ্রমিক শোষণ ও মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।