ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল গোটা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথম এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটির রাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান নতুন করে সংজ্ঞায়িত হতে চলেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার সরকারের পতনের তিন দিন পর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ গ্রহণ করে। শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধের পরও আশ্রয় দেওয়ায় ঢাকায় ভারতের প্রতি ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে নতুন সরকার চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের সিনিয়র ফেলো জশুয়া কার্লান্টজিক বলেন, “বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং ভবিষ্যৎ সরকার মূলত চীনের দিকে ঝুঁকছে।” তার মতে, গোটা বঙ্গোপসাগর ঘিরে চীনের কৌশলগত পরিকল্পনায় বাংলাদেশ এখন কেন্দ্রীয় অবস্থানে।
ড. ইউনূসের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ছিল চীনে, যা এই কৌশলগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ও চীন ভারতের সীমান্তের কাছে প্রস্তাবিত একটি উত্তরাঞ্চলীয় বিমানঘাঁটির পাশে ড্রোন কারখানা স্থাপনের বিষয়ে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
অপর দিকে, শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে, যদিও ঢাকার সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক প্রভীন দোন্থি মনে করেন, নতুন সরকার অস্থিতিশীলতার চেয়ে স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেবে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে, তবে সবসময় তা ভারতের সঙ্গে বৈরিতা সৃষ্টি করবে এমনটা নয়।