ওয়াশিংটন, ২৮ সেপ্টেম্বর : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে সম্ভাব্য অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। রবিবার তিনি জানান, “সবাই বিশেষ কিছুর জন্য প্রস্তুত,” ঠিক ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর হোয়াইট হাউস সফরের আগের দিন।
“আমাদের কাছে মধ্যপ্রাচ্যে মহত্ত্ব অর্জনের বাস্তব সুযোগ রয়েছে। সবাই প্রথমবারের মতো বিশেষ কিছুর জন্য একমত। আমরা এটি সফলভাবে সম্পন্ন করব!” ট্রাম্প লিখেছেন তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে।
শুক্রবারও ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, গাজা নিয়ে একটি চুক্তি হাতের নাগালে রয়েছে। যদিও তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
অন্যদিকে, জাতিসংঘে ভাষণে নেতানিয়াহু দৃঢ় অবস্থান নিয়ে বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা তিনি আটকাবেন এবং হামাসের বিরুদ্ধে “কাজ শেষ করবেন।” তার এই ঘোষণা আসে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর।
সোমবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে গাজা পরিস্থিতি, জিম্মিদের মুক্তি এবং ভবিষ্যৎ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সম্পর্ক প্রধান আলোচনার বিষয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলায় ইসরায়েলে ১,২১৯ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। এছাড়া ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর মধ্যে এখনও ৪৭ জন গাজায় রয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২৫ জনকে মৃত বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
পাল্টা অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজার ৫৪৯ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জাতিসংঘ এই সংখ্যাগুলোকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।
ট্রাম্পের “বিশেষ কিছু” মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের জল্পনা ছড়িয়েছে। তবে তা কার্যকর কোনো অগ্রগতি হবে নাকি কেবল রাজনৈতিক বার্তা সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।