শিরোনাম :
অনলাইন প্রতারণা রোধে বিশেষ কমিটির সিদ্ধান্ত শিগগিরই মন্ত্রিসভায় : ফাহমি ফাদজিল মেডিকেল ডিভাইস অনুমোদনে আসিয়ানের ঐতিহাসিক উদ্যোগ, সমন্বয় করবে মালয়েশিয়া ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ নয় ‘অপারেশন মেলানোপ্লাস’-এর আওতায় মাদকের বড় চক্রকে আটক করেছে পুলিশ ইন্দোনেশিয়ার মাদক চোরাচালান মামলায় দ্বিতীয় পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ নেপালে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক তথ্য দিবে উইস্মা পুত্রা: নাদমা সরকারি খরচের কার্যকর বাস্তবায়ন ও সুফল নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভার ঐক্যই সরকারের স্থিতিশীলতার ভিত্তি: আনোয়ার ভর্তুকির চাপে সরকারি ব্যয়ে লাগাম টানার আহ্বান আনোয়ারের

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আরও তিন শীর্ষ জেনারেল অপসারণ, চীনা সেনাবাহিনীতে কড়াকড়ি জোরদার

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

বেইজিং :  চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে এবার আরও তিনজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার পতন ঘটেছে। দেশটির জাতীয় আইনসভা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (NPC) স্থায়ী কমিটি শনিবার এই তিন কর্মকর্তাকে আইনসভা থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়, যা চীনা সেনাবাহিনীর ভেতরে চলমান শুদ্ধি অভিযানের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বহিষ্কৃত কর্মকর্তারা হলেন— সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের (CMC) রাজনৈতিক ও আইন বিষয়ক কমিটির প্রধান ওয়াং রেনহুয়া, পিপলস আর্মড পুলিশ (PAP)-এর রাজনৈতিক কমিশার ঝাং হংবিং এবং সিএমসির প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক ওয়াং পেং।

তবে এসব বহিষ্কারের পরও তিনজনই এখনো কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্ণ সদস্য হিসেবে বহাল রয়েছেন, যা দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই তিন জেনারেলের অবস্থান নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তাদের অনুপস্থিতি নজর কেড়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান এবং আসন্ন অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য দলের চতুর্থ প্লেনামের প্রস্তুতিতেও তাদের দেখা যায়নি।

৬৩ বছর বয়সী ওয়াং রেনহুয়া মাত্র এক বছরেরও কম সময় আগে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের হাত থেকে অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত হয়েছিলেন। তিনি সামরিক আদালত, প্রসিকিউটর দপ্তর ও কারাগারের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া ব্যাপক সামরিক সংস্কারের অংশ হিসেবে তাকে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

তার দ্রুত উত্থান ও আকস্মিক পতন চীনা সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে বিদ্যমান অস্থিরতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিকেই স্পষ্ট করে তোলে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ দেখাচ্ছে যে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে কোনো পদ বা মর্যাদাই নিরাপদ নয়। সামনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সময়সূচির আগে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব কাঠামোতে আরও পরিবর্তন আসতে পারে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর চীনের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দুর্নীতিজনিত শুদ্ধি অভিযান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (AI) নতুন প্রযুক্তিতে চীনের অগ্রগতি, তাইওয়ান, অরুণাচল প্রদেশ ও দক্ষিণ চীন সাগরকে ঘিরে বেইজিংয়ের ‘মূল স্বার্থ’-এর বিস্তৃত সংজ্ঞার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ২০২০ সালের লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC) উত্তেজনার পর ভারত-চীন সম্পর্ক, পাকিস্তান ও রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা এবং চীনা প্রতিরক্ষা সক্ষমতার নানা দিক বিশ্লেষণ করা হয়।

চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য এই প্রতিবেদনের কড়া সমালোচনা করেছে। এক মুখপাত্র বলেছেন, প্রতিবেদনটি চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক উন্নয়নকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকায়, এই তিন জেনারেলের বহিষ্কার চীনা সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »