ওয়াশিংটন, ৫ ডিসেম্বর : জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র ১৯টি অ-ইউরোপীয় দেশের নাগরিকদের সব ধরনের অভিবাসন আবেদন গ্রিন কার্ড, মার্কিন নাগরিকত্ব ও স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টসহ, স্থগিত করেছে। বুধবার ট্রাম্প প্রশাসন এ ঘোষণা দেয়।
এ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর বেশিরভাগই ইতোমধ্যে গত জুনে আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। নতুন নীতিটি সেই নিষেধাজ্ঞাকে আরও কঠোর করে, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক অবস্থানেরই সম্প্রসারণ। প্রভাবিত দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, মিয়ানমার, সোমালিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সুদান, ইয়েমেন, চাদ, ইরিত্রিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রসহ আরও কয়েকটি দেশ।
সরকারি স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মার্কিন ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় একজন আফগান নাগরিককে গ্রেফতারের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় একজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য নিহত হন এবং আরেকজন গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার পর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প সোমালিদের বিরুদ্ধে আরও উগ্র ভাষা ব্যবহার করেছেন, তাদের “আবর্জনা” বলে অভিহিত করে বলেছেন, “আমরা তাদের এই দেশে চাই না।”
জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলেও, বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের ওপর এত বড় পদক্ষেপ এবারই প্রথম। ন্যাশনাল গার্ড হামলার পর থেকে নিরাপত্তা ও আইনি অভিবাসন—দুই দিকেই প্রশাসনের মনোযোগ বাড়ছে, এবং এতে প্রায়ই সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নীতি সমালোচিত হচ্ছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত ১৯ দেশের নাগরিকদের সব মুলতুবি আবেদন এখন থেকে স্থগিত থাকবে। প্রতিটি আবেদনকারীকে নতুন করে কঠোর নিরাপত্তা পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, প্রয়োজনে পুনরায় সাক্ষাৎকারও নেওয়া হবে জাতীয় নিরাপত্তা বা জননিরাপত্তার ঝুঁকি মূল্যায়নে।
সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান, মিয়ানমার, চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন রয়েছে। আংশিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান ও ভেনেজুয়েলা।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (AILA) জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে বহু আবেদনকারীর নাগরিকত্বের শপথ অনুষ্ঠান, সাক্ষাৎকার ও স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট বাতিল বা স্থগিত হওয়ার খবর পেয়েছে।
সংগঠনের সরকারি সম্পর্ক পরিচালক শারভারি দালাল-ধেইনি বলেন, নতুন নীতিটি “হাজারো আবেদনকারীকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনিশ্চয়তায় ফেলে দিতে পারে,” যদিও অনেকেই বছরের পর বছর ধরে আইন মোতাবেক সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করছিলেন।
নীতি কখন শিথিল হবে বা নিরাপত্তা পর্যালোচনা কতদিন চলবে, এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো কোনো সময়সীমা ঘোষণা করেনি, যা অভিবাসী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।