আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাবে সৃষ্ট ভস্মচ্ছায়ায় আঞ্চলিক আকাশপথ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় আটকে পড়েছেন শত শত বিমানযাত্রী। এই সংকটকালে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মাইরা সাফিরা নামে এক ইন্দোনেশীয় নারী। জাকার্তায় বিপদে পড়া সাতজন মালয়েশিয়ান নাগরিককে বিনামূল্যে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
গত শুক্রবার থেকে ধারাবাহিকভাবে অগ্ন্যুৎপাত চালিয়ে যাচ্ছে আনাক ক্রাকাতাউ। ছাই ও ভস্মের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই অঞ্চলের অন্তত ৬টি বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক রুটগুলোতেও। কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, হংকং, সিডনি এবং সিউলসহ একাধিক বৈশ্বিক গন্তব্যের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েন হাজারও যাত্রী।
জাকার্তা বিমানবন্দরে আশ্রয়হীন ও চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটানো সাতজন মালয়েশিয়ান নাগরিকের কষ্ট দেখে নিজের বাড়ির দরজা খুলে দেন মাইরা সাফিরা। জাকার্তা বিমানবন্দরের ৩০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত তার চার রুমের বাসাটির তিনটি রুম তিনি তাদের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে একা ভ্রমণ করা নারীদের সুরক্ষাকে তিনি প্রাধান্য দিচ্ছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া থ্রেডস-এ এক পোস্টে মাইরা জানান—বিদেশে নিজের কিংবা পরিবারের কেউ এই পরিস্থিতিতে পড়লে কেমন হতো? মূলত এই ভাবনা থেকেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই থাকার ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
মাইরা সাফিরা বলেন, “এই আবাসন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। এর বিনিময়ে তিনি কোনো অর্থ বা প্রতিদান চান না। তিনি আরও জানান, ব্যস্ত গৃহস্থালির মাঝে নতুন অতিথিদের আগমনে তার বাসাটি এখন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ফ্লাইট বিপর্যয় আরও বাড়তে পারে।