কুয়ালালামপুর, ৭ অক্টোবর: গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (FFC)-এর নৌযাত্রা বুধবার (৮ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার সময় ভোর ৫টার দিকে গাজার “রেড জোনে” প্রবেশ করতে যাচ্ছে, যা এই অভিযানের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মানবিক সংস্থা হিউম্যানিটারিয়ান কেয়ার মালয়েশিয়া (MyCARE)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কমরুল জামান শাহারুল আনোয়ার মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই অভিযানে মোট নয়টি জাহাজ অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে Conscience ও Umm Saad নামের দুটি জাহাজ বর্তমানে “ইয়েলো জোনে” অবস্থান করছে— যা গাজার সমুদ্রসীমা থেকে প্রায় ১৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে।
তিনি বলেন, “সব জাহাজই গড়ে প্রতি ঘণ্টায় চার নট বেগে চলছে। Conscience জাহাজটি আজ সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ৩০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ ও ছোট সহায়ক নৌযানের সঙ্গে সমন্বয় শেষে পুনরায় যাত্রা শুরু করেছে।”
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের উপমন্ত্রী (ধর্ম বিষয়ক) ড. জুলকিফলি হাসান উপস্থিত ছিলেন। তিনি মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে এই মানবিক অভিযানে নিঃশর্ত সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেন।
কমরুল জামান আরও জানান, মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদল প্রধান প্রফেসর এমেরিটাস ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন সতর্ক করেছেন যে, বুধবার ও বৃহস্পতিবারের রাত দুটি হবে সবচেয়ে সংকটপূর্ণ ও বিপজ্জনক সময়, কারণ ইসরায়েলি বাহিনী সাধারণত রাতের আঁধারেই আক্রমণ চালিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, “আমরা সবার কাছে দোয়া চাই, যেন স্বেচ্ছাসেবীরা নিরাপদে তাদের মানবিক মিশন সম্পন্ন করতে পারেন। যদি অনুমতি মেলে, তারা গাজায় অবতরণ করে সেখানে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেবেন।”
কমরুল জামান আরও জানান, জাহাজে অবস্থানরত মালয়েশিয়ান প্রতিনিধি ড. ফওজিয়া মোহদ হাসান এক বার্তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ইসরায়েল ও তার মিত্রদের ওপর কূটনৈতিক ও গণআন্দোলনের মাধ্যমে চাপ বৃদ্ধি করে।
ড. ফওজিয়া বলেন,
“বিশ্বের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এখন ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও সংহতির কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের নিরাপত্তা ও মানবিক মিশনের সফলতা বিশ্বব্যাপী জনচাপের ওপর নির্ভর করছে।”
এদিকে, উপমন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, তার কার্যালয় মিশনের অগ্রগতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রতিবেদন পেয়েছে।
তিনি বলেন, “যা-ই ঘটুক, আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। আমি সকল মালয়েশিয়ানের প্রতি আহ্বান জানাই— ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক না কেন— সবাই যেন এই মানবিক মিশনের পাশে দাঁড়ান।”
ড. জুলকিফলি আরও যোগ করেন,
“গাজার পরিস্থিতি কেবল আঞ্চলিক নয়, এটি এখন বৈশ্বিক মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যেই গাজায় চলমান ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়ে এই বর্বরতা বন্ধ করতে হবে।”
তিনি সংবাদ সম্মেলনের সময় ফ্লোটিলার অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে এক লাইভ ভিডিও কনফারেন্সেও যোগ দেন এবং তাদের প্রতি দোয়া ও মনোবল জোগান দেন।
– পিবিএন নিউজ