লন্ডন, ৩১ জুলাই ২০২৫ — আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কানাডা ও মাল্টা-র প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে সরকারিভাবে স্বাগত জানিয়েছে সৌদি আরব।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক বিবৃতিতে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি এবং মাল্টার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট আবেলা-র এই ঘোষণাকে “দীর্ঘদিনের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধানের পথে ইতিবাচক পদক্ষেপ” বলে প্রশংসা করা হয়।
এই ঘোষণা আসে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষে, যা সৌদি আরব ও ফ্রান্সের যৌথ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুনরুজ্জীবিত করা।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়,
“ভ্রাতৃপ্রতিম ফিলিস্তিনিদের ভোগান্তি নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যমত্যকে সৌদি আরব গভীরভাবে প্রশংসা করে।”
সৌদি আরব আরও আহ্বান জানায় যে, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোকেও এ ধরনের “গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ” গ্রহণ করতে হবে, যাতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ আরও সুদৃঢ় হয়।
নিউইয়র্ক ঘোষণায় ১৫টি পশ্চিমা দেশের সমর্থন: কানাডা ও মাল্টা সহ ১৫টি পশ্চিমা দেশ “The New York Declaration on the Peaceful Settlement of the Question of Palestine” নামে একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে। ঘোষণাপত্রটি দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধানকে একমাত্র টেকসই পথ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পুনর্ব্যক্ত করে।
অন্যান্য স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে:
অস্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, লাক্সেমবার্গ, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পর্তুগাল, সান মারিনো, স্লোভেনিয়া, স্পেন ও আন্দোর্রা।
তবে উল্লেখযোগ্য যে, এসব দেশের মধ্যে এখনও সবাই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি।
আঞ্চলিক শান্তির প্রচেষ্টায় নতুন গতি: সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে রয়েছে।
রিয়াদ বহুদিন ধরেই ১৯৬৭-পূর্ব সীমান্তভিত্তিক দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধানকে সমর্থন জানিয়ে আসছে, এবং এটি বিশ্বাস করে যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে বৈশ্বিক স্বীকৃতি দেওয়া নতুন আলোচনার পথ উন্মুক্ত করতে সহায়ক হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কানাডা ও মাল্টার এই ঘোষণাগুলো অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াবে, বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার আদায়ের আহ্বান বিশ্বজুড়ে জোরালো হচ্ছে।
আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনটি তাই বিশ্বজুড়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যেখানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।