সেপাং, ৩০ সেপ্টেম্বর : গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা (GSF) যদি ইসরায়েলি বাহিনী আটকায় বা জব্দ করে, তবে মালয়েশিয়া তীব্র ও সর্বাত্মক প্রতিবাদ জানাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সেপাংয়ে সুমুদ নুসান্তারা কমান্ড সেন্টার (SNCC) পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার বলেন, “আমরা কঠোর প্রতিবাদ জানাবো এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করব, বিশেষ করে যারা শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে—ইতালি, স্পেন, তুরkiye, চীন তাদের সঙ্গে। একইসঙ্গে ফ্রান্স ও সৌদি আরবের সঙ্গেও যোগাযোগ চলছে, কারণ তারাও শান্তির প্রস্তাব দিতে আগ্রহী।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিমা ও আরব দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রধান শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি, যাতে ফিলিস্তিনি জনগণের কণ্ঠ বিশ্বপরিসরে জোরালোভাবে পৌঁছে যায়।
“যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা ও আরব বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি আমাদের সংগ্রামের সাথীরা অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তায় বিভ্রান্ত হবে না। বরং তারা বুঝবে আলোচনার গুরুত্ব এবং বিশ্বজনমতের দাবি মেনে নিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশকেই এগিয়ে আসতে হবে,” তিনি বলেন।
আনোয়ার আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন অক্টোবর মাসে ৪৭তম আসিয়ান সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক গাজা সংঘাতের সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, “সমাধান সবার জন্য সন্তোষজনক নাও হতে পারে, তবে মালয়েশিয়ার মৌলিক দাবি স্পষ্ট গাজায় সহিংস হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”
জানা গেছে, এই আন্তর্জাতিক মানবিক মিশনে ৪৫টি দেশের কর্মীরা অংশ নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে ৩৪ জন মালয়েশিয়ান। নানা বাধা ও হুমকি, এমনকি ড্রোন হামলার আশঙ্কার মধ্যেও তারা দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার নিজে প্রথম থেকেই এই মিশনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছেন। মালয়েশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লোটিলাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বর্তমানে গ্রিসের নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানরত গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা খাদ্য, ওষুধ এবং শান্তির বার্তা বহন করছে। তাদের মূল দাবি—যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষ বন্ধ করা এবং গাজার জন্য একটি স্থায়ী মানবিক করিডোর খুলে দেওয়া।