লন্ডন, ৩০ সেপ্টেম্বর : আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আততাফ। সোমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তৃতাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আততাফ বলেন, “আজ ফিলিস্তিন সবচেয়ে বড় হুমকির মুখে—সংযুক্তিকরণ, বাস্তুচ্যুতি এবং ফিলিস্তিনি প্রশ্নকে প্রতিনিধিত্ব করা বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দমনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে বিলুপ্ত করার চেষ্টা চলছে। এতে দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পথও ধ্বংসের মুখে পড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, এ হুমকি শুধু ফিলিস্তিনেই সীমাবদ্ধ নয়। ইসরায়েল প্রকাশ্যে “গ্রেটার ইসরায়েল” বাস্তবায়নের ইচ্ছা ঘোষণা করছে, যা লেবানন, সিরিয়া, মিসর ও জর্ডানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য ভয়াবহ বিপদ বয়ে আনবে।
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গড়ার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা কোনো দয়া নয়, এটি ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার অপরিহার্য শর্ত।”
তিনি জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্যপদ প্রদানের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
গাজায় চলমান যুদ্ধ নিয়ে আততাফ তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা উদ্বেগের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনাগুলো পর্যবেক্ষণ করছি এবং আশা করি এগুলো গাজার এই বিপর্যয়কর নাকবার অবসান ঘটাবে।”
আততাফ তার বক্তৃতায় লিবিয়া সংকটের প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ লিবিয়ার রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও গভীর করছে। “লিবিয়ানদের ওপর বিষয়টি ছেড়ে দিলে তারা অনেক আগেই নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে সংকট সমাধান করতে পারত,” মন্তব্য করেন তিনি।
সাহেল অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়েও আলজেরিয়া প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। আফ্রিকায় শান্তিরক্ষা কার্যক্রম ও সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে আততাফ বলেন, আফ্রিকা এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মহাদেশ।
একই সঙ্গে তিনি ভূমধ্যসাগরীয় নিরাপত্তায় আফ্রিকা–ইউরোপ সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দক্ষিণ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে কৌশলগত অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে, যা যৌথ সমৃদ্ধির পথ উন্মুক্ত করবে।”