২১ জুন, মধ্যপ্রাচ্য – ইরানের পক্ষ থেকে “অপারেশন ট্রু প্রমিজ III”-এর অধীনে শুক্রবার একটি নতুন এবং তীব্রতম হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে দখলীকৃত অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে।
অভিযানের মুখপাত্রের জারি করা আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযানের ১৭তম ধাপে ইরানি বাহিনী সুদূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, আত্মঘাতী ড্রোন এবং ভারী আক্রমণাত্মক ড্রোন (UCAV) ব্যবহার করে ইসরায়েলি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, সামরিক শিল্প এবং গোয়েন্দা ঘাঁটিগুলোর ওপর সমন্বিত হামলা চালিয়েছে।
মুখপাত্র বলেন, “বিশ্বকে আমাদের চমকের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।” তিনি আরও জানান, ইরানি জনগণের সমর্থনে “পবিত্র প্রতিরক্ষা” চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়েই শেষ হবে।
ইসরায়েলের গণমাধ্যমে কড়া সেন্সরশিপ থাকা সত্ত্বেও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, হাইফা বন্দরে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। ওই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাঞ্চলীয় শহরটি বর্তমানে প্রায় জনশূন্য, কারণ একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মকর্তারা নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
সামরিক বিশ্লেষকরা জানান, ইরান যেসব দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, তার অনেকগুলোই নতুন এবং প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অতিক্রম করে সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
উত্তর দখলীকৃত ফিলিস্তিনের আকাশে একটি শাহিদ-১৩৬ ড্রোনও উড়তে দেখা গেছে, যেটি কোনো বাধা ছাড়াই ইসরায়েলি আকাশসীমা অতিক্রম করে। এদিকে, ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) দাবি করেছে, তারা আগাম সতর্কতা দিয়ে ইসরায়েলি প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১৪-এর সদরদপ্তরে একটি নিখুঁত হামলা চালিয়েছে।
এই সর্বশেষ হামলা ইরানের আগ্রাসী প্রতিশোধমূলক অভিযানেরই অংশ, যা শুরু থেকে দখলীকৃত অঞ্চলের “সংবেদনশীল ও কৌশলগত” সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ধারাবাহিক হামলা ইসরায়েলি দখলদারদের ও সরকারের কর্মকর্তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে এবং বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে বাধ্য করছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা দুর্বলতাকে উন্মোচন করছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আবদুল্লাহিয়ান জেনেভায় ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন চলমান সংঘাত নিয়ে আলোচনা করতে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যতদিন না যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আগ্রাসন বন্ধ হচ্ছে, ততদিন কোনো কূটনৈতিক আলোচনায় ইরান যাবে না।
যখন গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে, তখন অপারেশন ট্রু প্রমিজের এই সর্বশেষ ধাপ ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকে আরও গুরুতর এবং বিস্তৃত পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।