ওয়াশিংটন, ২ জুলাই — মার্কিন ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্মকর্তাদের অবস্থান ট্র্যাক করার জন্য তৈরি একটি মোবাইল অ্যাপ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় সিএনএন-এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিষয়টি প্রেস স্বাধীনতা ও অভিবাসন নীতির ওপর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
‘আইসব্লক (IceBlock)’ নামের ওই অ্যাপটি ব্যবহারকারীদেরকে আইসিই এজেন্টদের চলাফেরার তথ্য সংগ্রহ ও শেয়ার করার সুযোগ দেয়। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সিএনএন এ ধরনের একটি অ্যাপের প্রচার করে আইন লঙ্ঘনের সহায়তা করছে।
ফ্লোরিডার এভারগ্লেডসে সদ্য উদ্বোধন হওয়া একটি নতুন আইসিই আটক কেন্দ্র — “অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ” — পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা মন্ত্রী ক্রিস্টি নোএম সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা বিচার বিভাগ (DOJ)-এর সঙ্গে কাজ করছি, দেখে বোঝার চেষ্টা করছি কিভাবে আমরা সিএনএন-কে বিচারের আওতায় আনতে পারি। কারণ তারা এমন কিছু করছে যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রমকে এড়িয়ে যেতে মানুষকে উৎসাহিত করছে। এটা অবৈধ এবং আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি।”
তবে সিএনএন তাদের প্রতিবেদন রক্ষায় সরব। তারা বলেছে, “এই অ্যাপটি অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে উন্মুক্তভাবে পাওয়া যাচ্ছে। এটি সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করা বেআইনি নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থ রক্ষার অংশ।”
অ্যাপটির নির্মাতা জোশুয়া অ্যারন সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে অ্যাপটি তৈরি করেন। তিনি এটিকে প্রতিরোধের একটি রূপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বৈরশাসনের সঙ্গে তুলনা করেন।
“আমরা আসলে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখছি,” বলেন অ্যারন। “এটাই আমার প্রতিরোধের উপায়।”
এই অ্যাপ ব্যবহারকারীদেরকে জনসাধারণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইসিই এজেন্টদের অবস্থান ম্যাপে চিহ্নিত করার সুযোগ দেয়। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এটি অভিবাসীদের জন্য তথ্য পাওয়ার সুযোগ বাড়ায়, তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি ফেডারেল আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং আইসিইর সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টম হোম্যান সিএনএনের প্রতিবেদনকে কড়া ভাষায় নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, “আমাদের একটি শক্ত বার্তা দিতে হবে—আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি, তাদের প্রকাশ নয়।”
বহু আইন বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, একটি উন্মুক্তভাবে উপলব্ধ অ্যাপের ওপর প্রতিবেদন করায় কোনো সংবাদমাধ্যমকে বিচারের মুখোমুখি করা হলে সেটি প্রথম সংশোধনীর (First Amendment) অধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি করবে এবং এটি সংবাদ স্বাধীনতার জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হচ্ছে।