গাজা, ২৪ আগস্ট : ইসরায়েলি সেনাদের হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আনাস আল-শরীফকে হত্যার আগে এবং এমনকি শাহাদাতের পরও তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মানহানিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে এক তদন্তে উঠে এসেছে।
ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম ইকাদ (Eekad) রবিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানায়, প্রো-ফিলিস্তিনি অথরিটি (PA) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ও গণমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলো ইসরায়েলি বক্তব্য হুবহু পুনরাবৃত্তি করে আনাসের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মানহানিকর প্রচারণা ছিল ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের কৌশলেরই অংশ, যেখানে হামলার আগে সাংবাদিক, হাসপাতাল ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুকে অবৈধভাবে বৈধ করার চেষ্টা করা হয়।
তদন্তে বলা হয়, প্রচারণাটি বিশেষভাবে তীব্র হয় অক্টোবর ২০২৪-এ, যখন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিখাই আদ্রাঈ আনাসের বিরুদ্ধে হামাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তোলেন এবং তাকে “মিথ্যার কণ্ঠস্বর” আখ্যা দেন। এর পরপরই প্রো-PA অ্যাকাউন্টগুলো একই বয়ান প্রচার শুরু করে।
জানুয়ারি ২০২৫-এ, টেলিগ্রাম চ্যানেল আল-মনখোল তাকে “রোপণ করা এজেন্ট” বলে কটূক্তি করে। আর জুন-জুলাইয়ে, গাজা সিটিতে ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রস্তুতির সময়, আবারও তার বিরুদ্ধে হামাস-সম্পর্কিত অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো, ১০ আগস্ট আনাস ও আরও চারজন আল-জাজিরা সাংবাদিক ইসরায়েলি বিমান হামলায় শহীদ হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ হয়নি। বরং ইসরায়েলি ও প্রো-PA অ্যাকাউন্টগুলো তাকে “হামাস কর্মী” আখ্যা দিয়ে হত্যাকে বৈধ প্রমাণের চেষ্টা চালায়।
ইকাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই ধরণের কৌশল নতুন নয়। ২০২২ সালে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত আল-জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকেও হত্যার আগে একইভাবে মানহানিকর প্রচারণার শিকার হতে হয়েছিল।
আনাস আল-শরীফকে সহকর্মীরা ও আন্তর্জাতিক মহল “গাজার কণ্ঠস্বর” হিসেবে স্মরণ করছেন। তার কয়েক দশকের নিরলস সাংবাদিকতা গাজার মানবিক সংকট বিশ্বকে জানাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।