কুয়ালালামপুর, ১৪ ফেব্রুয়ারি : মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (JIM) দেশজুড়ে রমজান বাজারগুলোতে অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার করবে, যাতে কোনো অবৈধ অভিবাসী ব্যবসা পরিচালনা বা কাজ করতে না পারে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি বলেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো বৈধ অনুমতি ছাড়া বিদেশিদের ব্যবসা পরিচালনা বা কর্মসংস্থানে নিয়োজিত হওয়া প্রতিরোধ করা।
“রমজান মাস হলেও আমাদের অভিযান থামবে না। রমজান বাজারগুলোতে তদারকি বাড়ানো হবে, যাতে কোনো অবৈধ অভিবাসী ব্যবসায়ী বা কর্মী হিসেবে যুক্ত না থাকে,” তিনি গত রাতে বান্দার সুংগাই লং-এ পরিচালিত ‘অপ সেলেরা’ অভিযানের পর সাংবাদিকদের জানান।
তিনি নিয়োগকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ বা আশ্রয় দিলে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে লোকমান এফেন্দি বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে ১,৭০০টি অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে প্রায় ২৭,০০০ বিদেশি নাগরিক পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৬,২০০ জনকে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বাধিক গ্রেপ্তার হয়েছে মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ ও চীনের নাগরিকদের মধ্যে।
তিনি জানান, একই সময়ে আইন লঙ্ঘনের দায়ে ২৩০ জন নিয়োগকর্তাকেও আটক করা হয়েছে।
সুংগাই লং-এর একটি বাণিজ্যিক এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে ৪৬৩ জনকে পরীক্ষা করে ৫১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ৪০ জন পুরুষ ও ১১ জন নারী, বয়স ২১ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে, যারা প্রধানত মিয়ানমার ও বাংলাদেশের নাগরিক।
চিহ্নিত অপরাধের মধ্যে রয়েছে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করা এবং পাস বা পারমিটের অপব্যবহার। এর মধ্যে কিছু ব্যক্তি কৃষিখাতের পারমিট নিয়ে রেস্তোরাঁয় কাজ করছিলেন বলেও জানা গেছে।
লোকমান এফেন্দি বলেন, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।