যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন আলোচনার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সোমবার (১৫ জুন) ভোরে দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি জানান, আগামী ১৯ জুন শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তি সই অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানটির আয়োজক দেশ পাকিস্তান। শাহবাজ শরিফ বলেন, দীর্ঘ মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে এবং এটি শুধু দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি নয়, বরং শান্তি ও সংলাপের বড় ধরনের বিজয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী টোলমুক্ত থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করবে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে জানান, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা এ সমঝোতাকে দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। এরমধ্যেই বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জেনেভায় চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকবেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্বাক্ষর করতে পারেন।
এর আগে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়। পুরো সময়জুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে পাকিস্তান। তবে শান্তি প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকার জন্য কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানিকে ধন্যবাদ জানান শাহবাজ শরিফ। এছাড়া সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের নেতৃত্ব ও সহযোগিতারও প্রশংসা করেন তিনি।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়। পরে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। এক পর্যায়ে বিশ্বের তেল পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলো ঘিরে নৌ অবরোধ তৈরি করে।