ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। কয়েক দফা রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও জানাজা শেষে আগামী ১৮ জুলাই পবিত্র নগরী মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।
শনিবার (১৩ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা জুলাই মাসে শুরু হবে। তথ্য অনুযায়ী, ১৩ ও ১৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে বিদায়ী শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৫ জুলাই তেহরানে এবং ১৬ জুলাই কোম শহরে তার জানাজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
পরে ১৮ জুলাই মাশহাদ শহরে আরও এক দফা জানাজার আয়োজন করা হবে। একই দিন সেখানে অবস্থিত ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজারে আলি খামেনিকে দাফন করা হবে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জানাজার কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লাখো মানুষ অংশ নিতে পারেন। তেহরান থেকে মাশহাদ পর্যন্ত কয়েকদিনব্যাপী শোকানুষ্ঠান, ধর্মীয় সমাবেশ এবং রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হবে। মাশহাদ শহরটি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র। সেখানে ইমাম রেজার পবিত্র মাজার অবস্থিত, যা শিয়া মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তাঁর মৃত্যু ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটায়। কারণ তিনি তিন দশকেরও বেশি সময় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশটিতে ৪০ দিন শোক ও ৭ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে ৪ মার্চ থেকে তিন দিনব্যাপী খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছিল ইরানি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা অব্যাহত থাকায় আয়োজনের প্রস্তুতিতে জটিলতা দেখা দেয় এবং অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়।