কুয়ালালামপুর: নেগরি সেম্বিলান রাজ্য নির্বাচনের আগে উমনো (UMNO) পাকাতান হারাপান (PH)-এর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, এমন অভিযোগ দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছেন উমনো সভাপতি ও মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আহমাদ জাহিদ হামিদি।
তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে আইনসভা ভেঙে দেওয়ার পর রাজনৈতিক সহযোগিতার অধ্যায়ও শেষ হয়। এরপর প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে স্বতন্ত্র কৌশল গ্রহণ করে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ।
শনিবার ‘ফোর্থ এডিশন সাউথ-ইস্ট এশিয়ান স্কলার্স কনফারেন্স ২০২৬’-এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাহিদ এ মন্তব্য করেন।
পাকাতান হারাপানের কয়েকজন নেতা দাবি করেছিলেন, নেগরি সেম্বিলানের মেন্ত্রি বেসার দাতুক সেরি আমিনুদ্দিন হারুনের প্রতি উমনোর কয়েকজন আইনপ্রণেতা সমর্থন প্রত্যাহার করায় রাজ্যে নির্বাচন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জাহিদ বলেন, উমনোর সমর্থন সরকারটির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত বহাল ছিল।
তিনি বলেন, “এখানে বিশ্বাসঘাতকতার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। নেগরি সেম্বিলান সরকারের প্রতি আমাদের সমর্থন মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত ছিল। মেন্ত্রি বেসার যখন আইনসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন, তখন জোটভুক্ত প্রতিটি দল স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও কৌশল বাস্তবায়নে মনোযোগ দেয়।”
জাহিদ আরও বলেন, কোনো রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকারের মেয়াদ শেষ হলে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করে, যা স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।
“কোনো প্রশাসনের মেয়াদ শেষ হলে তাকে বিশ্বাসঘাতকতা বলা যায় না। তখন রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সমর্থন অর্জন এবং আইনসভা বা পার্লামেন্টে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার পথ খোঁজে,” বলেন তিনি।
নেগরি সেম্বিলানের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত হয় রাজ্যের ইয়াং দি-পেরতুয়ান বেসারের মর্যাদা ও অবস্থান নিয়ে স্টেট লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি, মেন্ত্রি বেসার আমিনুদ্দিন হারুন এবং রাজ্যের চার ‘উন্দাং’ বা শাসক প্রধানদের মধ্যে মতবিরোধের কারণে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ জুন রাজ্য আইনসভা ভেঙে দেওয়া হয়।
এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পৃথক তারিখে জোহর ও নেগরি সেম্বিলান রাজ্য নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনার জবাব দেন জাহিদ।
তিনি বলেন, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করা উচিত নয়।
“এটি নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতা। বিশেষ করে মন্ত্রিসভার সদস্য বা সরকারে থাকা কোনো দলের শীর্ষ নেতার ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে কমিশনকে আক্রমণ করা উচিত নয়,” বলেন তিনি।
এর আগে ডিএপির উপসভাপতি এবং আবাসন ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এনগা কোর মিং নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যাকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দুই রাজ্যের আইনসভা ভেঙে যাওয়ার পরও একযোগে নির্বাচন আয়োজন করতে না পারলে কমিশনের পদত্যাগ করা উচিত।
নির্বাচন কমিশন আগামী ১১ জুলাই জোহর রাজ্য নির্বাচন এবং ১ আগস্ট নেগরি সেম্বিলান রাজ্য নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছে।
আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও জাহিদ পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, উমনোর পদক্ষেপ কোনো জোটসঙ্গীকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে নয়; বরং তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ।