মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকার প্রসঙ্গ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তার বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধিবেশনের ২৩তম দিনে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পরপরই সংসদে প্রায় ১০ মিনিট হইচই ও অচলাবস্থা দেখা দেয়।
ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিলেও জামায়াতে ইসলামীতে রাজনীতি করেন, যা তিনি “দ্বৈত অবস্থান” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও মন্তব্য করেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যের জামায়াতে রাজনীতি করা উচিত নয়।
এই বক্তব্যের পরই বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর বক্তব্য দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ফজলুর রহমান তার ব্যক্তিগত পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, যা তাকে মানসিকভাবে আঘাত করেছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “তিনি আমার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বলেছেন কোনো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য জামায়াতে থাকতে পারে না, এটি গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
তিনি আরও বলেন, কারও ব্যক্তিগত অবদান বা পরিচয় নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা সংসদের শিষ্টাচারবিরোধী। প্রবীণ একজন রাজনীতিবিদের কাছ থেকে এমন বক্তব্য তিনি প্রত্যাশা করেননি।
বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, তার রাজনৈতিক আদর্শ ও পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা তিনি “অপরাধমূলক মন্তব্য” হিসেবে উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে ফজলুর রহমান আবার বক্তব্য দিতে চাইলে স্পিকার তাকে অনুমতি না দিয়ে সংসদ শান্ত রাখার আহ্বান জানান। স্পিকার বলেন, সংসদকে অশান্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষের বক্তব্যে যদি কোনো অসংসদীয় অংশ থেকে থাকে, তা কার্যবিধি অনুযায়ী রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হবে।
এ ঘটনায় সংসদে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।