জোহর রাজ্যের নির্বাচনে বারিসান ন্যাশনালের (বিএন) ভূমিধস জয়ের পেছনে শক্তিশালী জনসমর্থন ও নির্বাচনী গতি কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকাতান হারাপানের নেতা ও ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন পার্টির (ডিএপি) মহাসচিব অ্যান্থনি লোক।
শনিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৫৬টি আসনের মধ্যে ৪৮টিতেই জয় পায় বিএন। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অ্যান্থনি লোক বলেন, শুরু থেকেই পাকাতান হারাপান জানতো জোহরে তাদের জন্য লড়াই সহজ হবে না। তিনি বলেন, জনগণের রায়কে তারা সম্মান করেন এবং যারা পাকাতানকে সমর্থন দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
লোকের ভাষ্য, নির্বাচনের আগে বিএন শক্তিশালী রাজনৈতিক গতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল, যা তাদের বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি মনে করেন, পেরিকাতান ন্যাশনালের (পিএন) অনেক সমর্থক এবার বিএনকে ভোট দিয়েছেন। তাঁর মতে, আগে যারা পিএনকে সমর্থন করেছিলেন, তাদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এবার বিএনর পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে পিএন কোনো আসনই জিততে পারেনি। জোটটির শরিক পাস ১১টি এবং বেরসাতু ১৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।
অ্যান্থনি লোক বলেন, নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না এলেও পাকাতান হারাপান, বিশেষ করে ডিএপির প্রতি সমর্থন এখনো দৃঢ় রয়েছে। এবার ডিএপি ছয়টি আসনে জয় পেয়েছে। তিনি বলেন, আগের নির্বাচনে তিনটি জোটের লড়াই হওয়ায় দলটি ১০টি আসন পেয়েছিল। তবে শহরাঞ্চলে, বিশেষ করে চীনা ভোটারদের মধ্যে ডিএপির প্রতি সমর্থন এখনো শক্তিশালী; সেখানে দলটি প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
নির্বাচনের ফল হতাশাজনক হলেও এতে বেশি সময় নষ্ট করতে চান না বলে জানান লোক। তিনি বলেন, এখন তাদের পুরো মনোযোগ আগামী ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নেগেরি সেম্বিলান রাজ্য নির্বাচনের দিকে।
জোহরের ফল নেগেরি সেম্বিলানের নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, এমন প্রশ্নের জবাবে লোক বলেন, দুই রাজ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতা এক নয়। তাঁর ভাষ্য, নেগেরি সেম্বিলানে আগের রাজ্য সরকার পাকাতান হারাপানের নেতৃত্বে ছিল এবং তাদের ১৭টি আসন রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য অন্তত আরও তিনটি আসন প্রয়োজন। তাই নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেগেরি সেম্বিলানে কোনো একক জোটের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তাই সেখানকার নির্বাচনের সমীকরণ জোহরের তুলনায় ভিন্ন হবে।
এদিকে, জেলেবুতে এক অনুষ্ঠানে অ্যান্থনি লোক জানান, কেজি চেন্নাহ এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নে পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ভূমি গণপরিবহন সংস্থা (এপাড)। প্রায় পাঁচ লাখ রিঙ্গিত ব্যয়ে মসজিদ, গ্রন্থাগার, ফুটসাল কোর্টের উন্নয়ন এবং এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার করা হবে।