সান ফ্রান্সিসকো : গুগল ঘোষণা করেছে তারা এমন একটি যুগান্তকারী কোয়ান্টাম কম্পিউটিং অ্যালগরিদম তৈরি করেছে যা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বাস্তব প্রয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
নতুন অ্যালগরিদমটির নাম “Quantum Echoes”, যা গুগলের নিজস্ব কোয়ান্টাম চিপ-এ চলে এবং এটি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্লাসিক্যাল সুপারকম্পিউটার অ্যালগরিদমের তুলনায় ১৩,০০০ গুণ দ্রুত।
গুগল জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই কোয়ান্টাম ইকোস অ্যালগরিদমটি অণুর গঠন বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হতে পারে, যা নতুন ওষুধ আবিষ্কার ও উন্নত পদার্থবিজ্ঞান গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অ্যালফাবেট ইনকর্পোরেটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গুগল ইতিমধ্যেই অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের সঙ্গে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রতিযোগিতায় শামিল হয়েছে। এই প্রযুক্তির লক্ষ্য এমন জটিল সমস্যার সমাধান করা যা বর্তমানে প্রচলিত কম্পিউটার দিয়ে অসম্ভব।
গত বছর গুগল উন্মোচন করেছিল তাদের নতুন কোয়ান্টাম চিপ “Willow”, যা কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মূল উপাদান “কিউবিট” (qubits)-এর ত্রুটি দূর করতে সক্ষম। কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, “Quantum Echoes” অ্যালগরিদমের আবিষ্কার ওই চিপটির মতোই বৈজ্ঞানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্জন।
গুগল আরও জানায়, নতুন এই অ্যালগরিদমের তৈরি ডেটা অন্যান্য কোয়ান্টাম কম্পিউটার বা পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাইযোগ্য, অর্থাৎ এর ফলাফল বাস্তব প্রয়োগে ব্যবহারযোগ্য।
গুগলের গবেষক টম ও’ব্রায়ান বলেন,
“যদি আমি আপনাকে প্রমাণ করতে না পারি যে ডেটা সঠিক, তাহলে সেই ডেটা দিয়ে কিছু করব কীভাবে?”
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে গুগল আশা করছে এই অ্যালগরিদম ব্যবহার করে নতুন ও নির্ভরযোগ্য ডেটাসেট তৈরি করা যাবে, বিশেষ করে লাইফ সায়েন্স বা জৈববিজ্ঞানের মতো ক্ষেত্রগুলোতে, যেখানে এখনো মানসম্মত ডেটা খুবই সীমিত।
গুগল তাদের নতুন গবেষণার বিস্তারিত প্রতিবেদন বৈজ্ঞানিক জার্নাল Nature-এ প্রকাশ করেছে বুধবার (অক্টোবর ২২)।