আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরেশোরে প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রতিটি আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকায় মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে দলটি পড়েছে বড় চ্যালেঞ্জে। এ কারণেই ধারাবাহিক বৈঠকে বসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত দুই দিনে দলের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে ত্যাগ ও ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে বলেন,
“দেশ, গণতন্ত্র ও দলের স্বার্থে ত্যাগ স্বীকারের মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। ঐক্য ধরে রাখাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
বৈঠকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কিভাবে খালেদা জিয়া নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে গণতন্ত্র ও দলের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন—যা বিএনপির আন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়।
সোমবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে বৈঠক হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সঞ্চালনা করেন রুহুল কবীর রিজভী।
এর আগের দিন (রবিবার) চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও কুমিল্লা বিভাগের প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
“দলের স্বার্থ আগে, ব্যক্তিগত নয়”
বৈঠকে তারেক রহমান বলেন,
“প্রতিটি আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন, কিন্তু মনোনয়ন পেতে পারেন মাত্র একজন। তাই বাদ পড়লেও কারও মনে কষ্ট বা বিভেদ তৈরি করা যাবে না।”
তিনি নির্দেশ দেন—মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী যেন কোনো আনন্দ মিছিল বা মিষ্টি বিতরণ না করেন। বরং প্রথমেই গিয়ে মনোনয়নবঞ্চিত সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে হবে।
ত্যাগের গল্পে আবেগঘন মুহূর্ত
বৈঠকে তারেক রহমান এক মায়ের ভালোবাসার গল্পের মাধ্যমে ত্যাগের গুরুত্ব বোঝান। তিনি বলেন,
“যেমন প্রকৃত মা সন্তানের ভাগ চাননি, তেমনি প্রকৃত নেতা দলের জন্য নিজের স্বার্থ ত্যাগ করতে পারেন।”
এই বক্তব্যে বৈঠক কক্ষে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মেহেরপুর-১ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী জাকির হোসেন বলেন,
“ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাদের বলেছেন—মনোনয়ন নয়, দলের স্বার্থ বড়। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব বলে অঙ্গীকার করেছি।”
বরিশাল বিভাগের নেতা মাহবুবুল হক নান্নু বলেন,
“১৭ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করেছেন। এবার নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয়ই হবে সেই প্রতিশোধ।”
রাজশাহী বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম বলেন,
“ঐক্যই আমাদের মূল শক্তি। আমরা ঐক্য ধরে রাখতে পারলে, বিজয় আমাদের নিশ্চিত।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন চূড়ান্তের আগে তারেক রহমান বিভিন্ন পেশাজীবী, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মাধ্যমে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাই করছেন। প্রতিটি আসনে তিনি একাধিক জনপ্রিয় প্রার্থী চিহ্নিত করেছেন, তবে বিএনপি প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী দিতে চায়।
বৈঠকের শেষে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা একসঙ্গে শপথ নেন—
“আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব, ধানের শীষের বিজয়ের জন্য সর্বাত্মকভাবে কাজ করব।”