যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও ইরানের ২ হাজার ৪০০ কোটি (২৪ বিলিয়ন) ডলারের আটকে রাখা সম্পদ ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা। তবে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা সরাসরি নিশ্চিতকরণ ছাড়াই তিনি এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে দাবি ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তার। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি শুক্রবার (১২ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর দেজফুলে একটি স্মরণ অনুষ্ঠানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি এই দাবি করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাত ইরানের বৈশ্বিক অবস্থান ‘শক্তিশালী’ করেছে। তার দাবি, ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা এতটাই বেড়েছে যে ‘জুয়াড়ি ট্রাম্প’ এখন তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করতে ভয় পাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মহসেন রেজায়ি দাবি করেন, ওয়াশিংটনের নীতিগুলো এখন বহুলাংশে ইসরাইলি লবিং দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। লবিস্টদের অতিরিক্ত প্রভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ‘জায়নবাদী শাসনের’ একটি ‘উপনিবেশে’ পরিণত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রেজায়ির এই মন্তব্যের আগেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক লেবাননসহ সব ফ্রন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শেষ করবে এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আলোচনার পথ খুলে দেবে। অন্যদিকে,
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত মিলেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, আগামী ‘কয়েক দিনের মধ্যেই’ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের একটি চুক্তি সই হবে বলে ওয়াশিংটন প্রত্যাশা করছে। অবশ্য তার দাবি, এই চুক্তির ফলে শেষ পর্যন্ত ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাবে।