থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে সহিংসতা, কমেছে মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তে যাতায়াত
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় তিন প্রদেশে বোমা হামলা, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মালয়েশিয়া থেকে থাইল্যান্ডে সীমান্ত পারাপার কমে গেছে। বিশেষ করে রান্তাউ পাঞ্জাং ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, কোয়ারেন্টাইন অ্যান্ড সিকিউরিটি (আইসিকিউএস) কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কমেছে।
মালয়েশিয়ার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থা (একেপিএস) রান্তাউ পাঞ্জাংয়ের কমান্ডার সিতি খাদিজাহ হামজাহ জানান, গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছেন ৩ হাজার ২৯৮ জন। বিপরীতে মালয়েশিয়া থেকে বের হয়েছেন ২ হাজার ৯৬৯ জন।
তিনি বলেন, শনিবার মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৬৮ জন। তবে রোববার ও সোমবার তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ২৩০ জনে। একইভাবে শনিবার মালয়েশিয়া থেকে থাইল্যান্ডের দিকে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৯৬ জন, যা পরবর্তী দুই দিনে কমে ১ হাজার ২৭৩ জন হয়েছে।
কর্মকর্তারা , গত শনিবার থাইল্যান্ডের নারাথিওয়াত, পাত্তানি ও ইয়ালা প্রদেশের ৫১টি স্থানে একযোগে গুলিবর্ষণ, বোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সীমান্ত পারাপার কমেছে।
সীমান্তের রান্তাউ পাঞ্জাং আইসিকিউএস এলাকায়ও এখন বেশ শান্ত পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। সাধারণত সরকারি ছুটির দিন বা সাপ্তাহিক ছুটিতে এখানে ব্যাপক ভিড় হয়। কোনো কোনো সময় থাইল্যান্ডে প্রবেশের জন্য প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের সারি দেখা যায়। এসব দিনে সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষের যাতায়াত হয়।
সহিংসতার কারণে অনেক মালয়েশিয়ান থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটন, কেনাকাটা ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে, তিন প্রদেশে ৫০টির বেশি সহিংস ঘটনার পর নারাথিওয়াত প্রদেশে রাত ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। এসব ঘটনার মধ্যে বোমা হামলা, সরকারি কার্যালয়ে আগুন দেওয়া ও সড়কে টায়ার পোড়ানোর ঘটনাও রয়েছে।
থাইল্যান্ডের নারাথিওয়াত থেকে আসা বিস্ফোরণের শব্দ মালয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকাতেও পৌঁছেছে। এতে কেলান্তানের পাসির মাসের রান্তাউ পাঞ্জাংয়ের কামপুং লুবক গং ও কামপুং তেরসাংয়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।