কুয়ালালামপুর: Royal Malaysian Navy (টিএলডিএম) তাদের লিটোরাল মিশন শিপ (এলএমএস) ব্যাচ–২ বহরের যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়াতে নতুন সারফেস-টু-সারফেস (SSM) ও সারফেস-টু-এয়ার (SAM) ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র আগামী বছর থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, তুরস্ক থেকে ২৪টি SSM ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হচ্ছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৩৬৯.৩ মিলিয়ন রিঙ্গিত। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৪৮টি SAM ক্ষেপণাস্ত্র আসবে, যার মূল্য প্রায় ৩৭২.৬৯ মিলিয়ন রিঙ্গিত। এছাড়া ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি MBDA থেকে আরও ২৯টি SAM সংগ্রহ করা হবে, যার মূল্য প্রায় ৫০৪.৫ মিলিয়ন রিঙ্গিত।
এই ক্রয়চুক্তিগুলো সম্পন্ন হয়েছে Defence Services Asia (DSA) 2026 এবং National Security Asia (NATSEC) Asia 2026 প্রদর্শনীতে, যেখানে মোট ১২টি চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১.১৩ বিলিয়ন রিঙ্গিতের ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে ২৪টি প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩.৫৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী Mohamed Khaled Nordin জানান, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দক্ষিণ চীন সাগরসহ দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় নৌবাহিনীকে আরও প্রস্তুত রাখা।
তিনি বলেন, “এলএমএস এবং নির্মাণাধীন লিটোরাল কমব্যাট শিপ (LCS)-এর জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিশ্চিত করা হচ্ছে, যাতে আমাদের নৌবাহিনী আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।”
এছাড়া এই চুক্তিগুলোর অংশ হিসেবে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন রিঙ্গিত মূল্যের ৮টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কোলাবোরেশন প্রোগ্রাম (ICP) অফার লেটার এবং ১ বিলিয়ন রিঙ্গিতের বেশি মূল্যের ৪টি লেটার অব ইন্টেন্ট (LOI) দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বছরের শুরুতে ক্রয় প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় এবারের চুক্তির মোট মূল্য আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে।
উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া এর আগে তুরস্ক থেকে তিনটি এলএমএস জাহাজ অর্ডার করেছে, যেগুলো ২০২৭ সালের মধ্যে সরবরাহ হওয়ার কথা রয়েছে।