তেহরান, ১১ ফেব্রুয়ারি : ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে ইরানজুড়ে কোটি মানুষের অংশগ্রহণে বিশাল গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সমাবেশে অংশ নিয়ে ইরানিরা প্রয়াত ইমাম রুহুল্লাহ খোমেনির আদর্শের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন, যিনি ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পাহলভি রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়েছিলেন।
দেশটির রাজধানী তেহরানসহ প্রায় ১,৪০০ শহর ও নগরে মানুষ ঠান্ডা, বৃষ্টি ও তুষার উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে আসে। তেহরানে সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে মানুষ আজাদি স্কয়ারের দিকে যাত্রা শুরু করে, যেখানে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিশাল জনসমাবেশে ভাষণ দেন।
সমাবেশকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং অতীতের যুদ্ধ ও সংঘাতে নিহতদের ছবি বহন করেন। এসবের মধ্যে ছিল আট বছরব্যাপী ইরান-ইরাক যুদ্ধ, সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় নিহতদের স্মৃতি।
এই কর্মসূচি কভার করতে প্রায় ৭,২০০ দেশীয় সাংবাদিক এবং প্রায় ২০০ বিদেশি সংবাদমাধ্যম প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পশ্চিমা গণমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাস্তব চিত্র তুলে ধরার লক্ষ্যেই ব্যাপক মিডিয়া কাভারেজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত ৯টায় দেশজুড়ে মানুষ “আল্লাহু আকবার” ধ্বনি দিয়ে বিপ্লবের বিজয় স্মরণ করে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ ইরানি পতাকা হাতে সমবেত হয়।
এর আগে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি জাতিকে ঐক্য ও দৃঢ়তার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ঐক্য শত্রুদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করবে।
সমাবেশটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন জানুয়ারির শুরুতে অর্থনৈতিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, বিদেশি শক্তিগুলো ওই সহিংসতায় জড়িত ছিল এবং এতে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সমাবেশের পাশে সাম্প্রতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন প্রদর্শন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা পবিত্র কুরআনের কপি হাতে নিয়ে ধর্মীয় অবমাননার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এছাড়া আজাদি স্কয়ারে বিভিন্ন ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ প্রদর্শন করা হয়।
সমাবেশে গৃহীত এক ঘোষণায় বলা হয়, জনগণের এই ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি ইরানের জাতীয় ঐক্য, রাজনৈতিক সচেতনতা ও দৃঢ়তার প্রতীক। ঘোষণায় সামাজিক সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয় এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজনের বিরুদ্ধে সতর্ক করা হয়।
এই বার্ষিকী ১৯৭৯ সালে পাহলভি শাসনের পতনের স্মরণে পালিত হয়। ইমাম খোমেনি নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে জনগণের বিপুল সমর্থন পান এবং ১১ ফেব্রুয়ারি সামরিক বাহিনী বিপ্লবীদের পক্ষে অবস্থান নিলে রাজতন্ত্রের পতন ঘটে।