কুয়ালালামপুর: একদিকে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান, অন্যদিকে মানবপাচার চক্র ও অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী হাজারো বাংলাদেশি।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় নতুন করে বৈধ শ্রম ভিসা চালু না থাকায়, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি ও বাংলাদেশি দালালচক্র ভ্রমণ ভিসায় মালয়েশিয়া এনে কাজ দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিনই কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে শত শত বাংলাদেশিকে আটক করছে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
শুধু বিমানবন্দরেই নয়, অভিযোগ রয়েছে, বর্ডার এলাকার গভীর জঙ্গল, পালম অয়েল বাগান ও দুর্গম অঞ্চলে প্রবাসীদের আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছে মানবপাচার চক্র। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারকে ভয় দেখিয়ে আদায় করা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বছরের প্রথম এক মাসেই মালয়েশিয়া জুড়ে পরিচালিত সাঁড়াশি অভিযানে ১৩৭৫ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৩২২২ জন অবৈধ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। কুয়ালালামপুরসহ দেশের ১৩টি রাজ্যে একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ বিষয়ে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও আটক অভিযান মালয়েশিয়ার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার একটি নিয়মিত অংশ। তিনি বলেন, “দেশের নিরাপত্তা ও শ্রমবাজার শৃঙ্খলায় রাখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অবৈধ অভিবাসী শনাক্তে ইমিগ্রেশন বিভাগ এখন আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে। দুর্গম এলাকা, পালম অয়েল বাগান ও ক্যামেরুন হাইল্যান্ডসের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবৈধ কর্মীদের অবস্থান শনাক্ত করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে প্রবাসী প্রত্যাশীদের ভ্রমণ ভিসায় কাজের প্রলোভনে না পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।