রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভূমিকম্প অনূভূত হয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটের দিকে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এর উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী। এটি একটি মাঝারি শ্রেণির ভূমিকম্প।
এদিকে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিস) বলছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৫। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নরসিংদীর ঘোড়াশাল।
ভূমিকম্পের ফলে ভেঙ্গে পড়ে বিভিন্ন স্থাপনা, হেলে পড়ে বড় বড় ভবন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬ শতাধিক মানুষ। আহতরা দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট সাড়ে চারশো জনের বেশি আহত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর আহত ১৬ জনকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
তবে এর বাইরেও বহু রোগী দেশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং কোথাও কোথাও ভর্তি রয়েছেন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই তথ্য এখনো হালনাগাদকৃত তথ্যে যুক্ত হয়নি। ফলে মোট আহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত সাড়ে চার শ’র বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের পরিবীক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের পরিচালক নিতাই চন্দ্র দে সরকার। তিনি জানান, ‘সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে ভবনের ধস, দেয়াল ভাঙা ও আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি-জনিত ঘটনায় অধিকাংশ আহতের খবর এসেছে।
নরসিংদীর মাধবদীতে উৎপত্তি হওয়া ওই কম্পনে সারাদেশে ১০ জনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। চ্যানেল 24-এর পাঠকদের জন্য হতাহতের খবর তুলে ধরা হলো।
রাজধানীর বংশালের কসাইটুলী এলাকায় একটি পাঁচ তলা ভবনের রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে তিন পথচারী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাবা-ছেলে বলে জানা গেছে। তারা হলেন হাজি আব্দুল রহিম (৪৭) এবং মেহরাব হোসেন রিমন (১৩)। এছাড়া মায়ের সঙ্গে বাজার করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফি। তার মা নুসরাত গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন।