বাংলাদেশের ৮০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, যিনি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে মিথ্যা দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাবাস ও দীর্ঘ সময় রাজনীতি থেকে দূর ছিলেন , তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ঘোষণা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক নীরবতা ভেঙে জাতীয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দলটি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের কৌশলের অংশ হিসেবে খালেদা জিয়াকে পুনরায় নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আনছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, খালেদা জিয়া তিনটি সংসদীয় আসনে প্রার্থী হবেন। তার ছেলে তারেক রহমান, যিনি লন্ডনে নির্বাসনে আছেন, তিনিও ঢাকার একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যা বর্তমানে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে, ঘোষণা করেছে যে ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
দুই দফা প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয় এবং ২০১৮ সালে তিনি ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে ২০২২ সালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়, শর্ত ছিল তিনি দেশ ছেড়ে যেতে বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না।
তবুও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তার প্রার্থিতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আশাকে শক্তিশালী করবে।
বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগগুলো ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যাতে তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়।
১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে মূলত খালেদা জিয়ার বিএনপি ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ-এর মধ্যে। তবে চলতি বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করেছে, যার ফলে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ এই নির্বাচনে নতুন মোড় আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খালেদা জিয়ার এই প্রত্যাবর্তন আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।