প্রতিবেদন: রেজুয়ানা বিনতে রেজা
বৃষ্টি — প্রকৃতির এক অনন্য উপহার, যা শুধু প্রাণের জোগানই দেয় না, বরং আল্লাহর অসীম রহমতের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে বৃষ্টিকে “রহমত”, “জীবনের উৎস” এবং “আল্লাহর শক্তির নিদর্শন” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা সূরা আর-রূমের ৪৮ নম্বর আয়াতে বলেন—
“আল্লাহই সেই, যিনি বাতাস প্রেরণ করেন, তা মেঘমালা উত্থাপন করে, তারপর তিনি সেটাকে আকাশে যেভাবে চান ছড়িয়ে দেন, পরে সেটাকে টুকরো টুকরো করেন, এরপর তুমি দেখো বৃষ্টিধারা তাতে থেকে নির্গত হয়।”
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, প্রকৃতির প্রতিটি প্রক্রিয়া—বাতাস, মেঘ ও বৃষ্টি—সবকিছুই আল্লাহর নির্ধারিত ব্যবস্থায় ঘটে। বিজ্ঞান বৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করলেও, কুরআন মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে, সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ একমাত্র আল্লাহর হাতে।
আরও একটি আয়াতে, সূরা আন-নূর (২৪:৪৩)-এ বলা হয়েছে—
“তুমি কি দেখ না, আল্লাহ মেঘকে একত্র করেন, তারপর তাকে সংযুক্ত করেন, পরে সেটাকে স্তরে স্তরে রাখেন, তারপর তুমি দেখো বৃষ্টি তাতে থেকে ঝরে পড়ে।”
এ আয়াতে বৃষ্টির গঠন প্রক্রিয়াকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা আধুনিক বিজ্ঞানের বর্ণনার সঙ্গে চমৎকারভাবে মিল রাখে।
বৃষ্টি—রহমতের প্রতীক
কুরআনে বলা হয়েছে, বৃষ্টি পৃথিবীতে জীবন ফিরিয়ে আনে। সূরা আল-আ‘রাফে (৭:৫৭) আল্লাহ বলেন—
“তিনিই সেই, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন সুসংবাদ বহনকারী হিসেবে, তাঁর রহমতের আগমনের আগে। যখন তা ভারী মেঘ বয়ে আনে, তখন আমরা সেটাকে মৃত ভূমিতে নিয়ে যাই এবং তাতে পানি বর্ষণ করি, ফলে তা হতে সব ধরনের ফল-ফসল উৎপন্ন হয়।”
এই আয়াত মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রতিটি ফোঁটা বৃষ্টি শুধু প্রাকৃতিক নয়, বরং আল্লাহর দয়ার প্রতিফলন।
আজকের বিশ্বে, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কখনও অতিবৃষ্টি, আবার কখনও খরার প্রভাব দেখা যায়—কুরআনের এই বার্তাগুলো আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে যেন তারা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট না করে এবং আল্লাহর দেওয়া এই নিয়ামতকে অবজ্ঞা না করে।
বৃষ্টি শুধু পানি নয়—এটি এক গভীর বার্তা, যা মানুষকে আল্লাহর অস্তিত্ব, শক্তি ও দয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কুরআনের আলোকে, বৃষ্টি হলো নবজীবনের প্রতীক এবং মানবজাতির প্রতি সৃষ্টিকর্তার অশেষ অনুগ্রহের নিদর্শন।