শিরোনাম :
ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ নয় ‘অপারেশন মেলানোপ্লাস’-এর আওতায় মাদকের বড় চক্রকে আটক করেছে পুলিশ ইন্দোনেশিয়ার মাদক চোরাচালান মামলায় দ্বিতীয় পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ নেপালে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক তথ্য দিবে উইস্মা পুত্রা: নাদমা সরকারি খরচের কার্যকর বাস্তবায়ন ও সুফল নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভার ঐক্যই সরকারের স্থিতিশীলতার ভিত্তি: আনোয়ার ভর্তুকির চাপে সরকারি ব্যয়ে লাগাম টানার আহ্বান আনোয়ারের কোটা নির্ভরতা ছেড়ে মালয় ও বুমিপুত্রদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার আহ্বান উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর কেদাহতে চালচাষীদের সার সরবরাহে বিলম্ব: এমএসিসির তদন্ত শুরু

সুদানের দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশের শহরে একটি হাসপাতালে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ, শতাধিক নিহত: ডব্লিউএইচও

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫

কায়রো, ১ নভেম্বর : সুদানের দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশের শহরে একটি হাসপাতালে সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানায়, গত সপ্তাহে সৌদি হাসপাতালটিতে সশস্ত্র মিলিশিয়াদের ধারাবাহিক আক্রমণে অন্তত ৪৬০ জন নিহত হয়েছেন, যা দেশটির চলমান দুই বছরের যুদ্ধে অন্যতম ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।

ডব্লিউএইচও’র মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেইয়ার জানান, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তিন দফায় হাসপাতালটিতে হামলা চালায়, প্রথমে চিকিৎসক ও নার্সদের অপহরণ করে, পরে ফিরে এসে রোগী, চিকিৎসাকর্মী ও আশ্রয় নেওয়া সাধারণ মানুষদের গুলি করে হত্যা করে।

“বন্দুকধারীরা অন্তত তিনবার হাসপাতালে আসে,” বলেন লিন্ডমেইয়ার জেনেভায় জাতিসংঘের এক ব্রিফিংয়ে। “প্রথমে তারা স্বাস্থ্যকর্মীদের ধরে নিয়ে যায়, অন্তত ছয়জন এখনও নিখোঁজ। এরপর তারা ফিরে এসে নির্বিচারে হত্যা শুরু করে। তৃতীয়বারে তারা যা বাকি ছিল সব ধ্বংস করে দেয়।”

হামলাটি ঘটে মঙ্গলবার, ঠিক তখনই র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) নামের শক্তিশালী প্যারামিলিটারি গোষ্ঠী দারফুরের শেষ সেনা নিয়ন্ত্রিত শহর এল-ফাশের দখল করে নেয়, ১৮ মাসব্যাপী অবরোধের পর

দীর্ঘ অবরোধের সময় সৌদি হাসপাতাল ছিল এল-ফাশেরের একমাত্র কার্যকর চিকিৎসা কেন্দ্র। হামলার পর শহরে এখন কোনো মানবিক বা স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা কার্যক্রম চালাতে পারছে না, জানিয়েছেন ডব্লিউএইচও-র মানবিক কার্যক্রমের প্রধান ড. তেরেসা জাকারিয়া।

সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভয়াবহ ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, হাসপাতালের করিডরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকা মৃতদেহ এবং অস্ত্রধারীদের কাছ থেকে গুলি চালানোর দৃশ্য। তবে এসব ভিডিওর স্বতন্ত্র যাচাই সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে আরএসএফ দায় অস্বীকার করে এক ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে তারা দাবি করেছে তাদের যোদ্ধারা “আহতদের চিকিৎসা দিচ্ছিল”। তবে ভিডিওটির বিশ্বাসযোগ্যতা ও সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রাজধানী খারতুম থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এল-ফাশের এখন প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ, সহায়তা সংস্থাগুলো শহর ত্যাগ করেছে।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত অন্তত ৬২,০০০ মানুষ শহর ছেড়েছে, তবে তাদের অল্প কিছুজনই তাওইলা নামের আশপাশের একটি শহরে পৌঁছাতে পেরেছে, যেখানে নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি) পরিচালিত শিবিরে তারা আশ্রয় নিচ্ছে।

তাওইলা হাসপাতালেই অন্তত ৪৫০ জন আহত ও অপুষ্টিতে ভুগছে, স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

“অনেকেই এমন ক্ষত নিয়ে এসেছে যা সপ্তাহ বা মাস ধরে চিকিৎসা পায়নি,” বলেন দারফুরের বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর মুখপাত্র আদাম রোজাল। “অনেক শিশু এসেছে একা তাদের পরিবার হয় নিহত, নয়তো হারিয়ে গেছে।”

একজন বেঁচে ফেরা নারী, ৭০ বছর বয়সী ফাতিমা আবদুলরহিম, জানান তিনি পাঁচ দিন ধরে পালিয়ে বেঁচে গেছেন, গুলির আঘাত এড়িয়ে গর্তে লুকিয়ে, পথে ঘাস খেয়ে বেঁচে ছিলেন।

“মৃতদেহে ভরা ছিল চারপাশ,” তিনি বলেন। “আমি নাতিদের চোখ ঢেকে রেখেছিলাম যেন তারা কিছু না দেখে।”

এল-ফাশের পতন সুদানের গৃহযুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিয়েছে। এর মাধ্যমে আরএসএফ এখন প্রায় পুরো দারফুরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যা আকারে প্রায় স্পেনের সমান।

২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর এই সংঘাতে ৪০,০০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি সুদানি বাস্তুচ্যুত, দুর্ভিক্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, এবং রোগব্যাধিতে হাজারো মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।

আরএসএফ, যাদের অধিকাংশ সদস্য আরব জানজাওয়িদ মিলিশিয়া গোষ্ঠী থেকে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে গণহত্যা, ধর্ষণ ও জাতিগত নিধনের অভিযোগ যা ২০০০-এর দশকের দারফুর গণহত্যার ভয়াবহ স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে, যেখানে প্রায় ৩ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিল।

 

এখন এল-ফাশের দখলের পর বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সুদান হয়তো কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে— পশ্চিমে ও দারফুরে আরএসএফ-এর নিয়ন্ত্রণ, আর উত্তরে ও পূর্বে সেনাবাহিনীর আধিপত্য।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »