শিরোনাম :
ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদের আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ নয় ‘অপারেশন মেলানোপ্লাস’-এর আওতায় মাদকের বড় চক্রকে আটক করেছে পুলিশ ইন্দোনেশিয়ার মাদক চোরাচালান মামলায় দ্বিতীয় পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ নেপালে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক তথ্য দিবে উইস্মা পুত্রা: নাদমা সরকারি খরচের কার্যকর বাস্তবায়ন ও সুফল নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভার ঐক্যই সরকারের স্থিতিশীলতার ভিত্তি: আনোয়ার ভর্তুকির চাপে সরকারি ব্যয়ে লাগাম টানার আহ্বান আনোয়ারের কোটা নির্ভরতা ছেড়ে মালয় ও বুমিপুত্রদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার আহ্বান উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর কেদাহতে চালচাষীদের সার সরবরাহে বিলম্ব: এমএসিসির তদন্ত শুরু

আসিয়ান সম্মেলনকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে নয়াদিল্লি

ওয়াহিদ সোহান: বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট: শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫

কুয়ালালামপুর, ৩১ অক্টোবর: আমেরিকার শুল্কনীতি ও ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞার চাপে যখন ভারতের অর্থনীতি ও কূটনীতি নতুন সংকটে পড়েছে, ঠিক তখনই আসিয়ান সম্মেলনকে (ASEAN Summit) কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে নয়াদিল্লি। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ৪৭তম আসিয়ান সম্মেলনে ভারত এখন নিজেদের প্রভাব পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে,  বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায়।

সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিদল একাধিক আঞ্চলিক নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল “আসিয়ান-ইন্ডিয়া সামিট”, যেখানে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রযুক্তি হস্তান্তর, সাইবার নিরাপত্তা সহযোগিতা, এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যৌথ সামুদ্রিক নিরাপত্তা উদ্যোগ।

কূটনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের শীতলতা কাটাতে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ফোরামে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ভারত আসিয়ান নেতৃত্বের সহায়তা নিচ্ছে। মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ করার পাশাপাশি চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গেও ভারতের যোগাযোগ বাড়ছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেছেন, “ভারত আসিয়ানকে তার ‘প্রধান কৌশলগত অংশীদার’ হিসেবে দেখে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাই এখন নয়াদিল্লির অগ্রাধিকার।”

বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে আসিয়ান এখন এক গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি, আর ভারত সেই প্রেক্ষাপটে নিজেকে পুনরায় অবস্থান করাতে চাইছে।

আসিয়ান সম্মেলনের সূত্রে জানা গেছে, ভারত পরবর্তী পর্যায়ে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা খাতে আরও সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

এই কূটনৈতিক সক্রিয়তা ইঙ্গিত দেয়, আমেরিকার চাপ ও চীনের প্রভাবের মাঝখানে ভারত এখন “আসিয়ান কার্ড” খেলছে, নিজেদের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »