শিরোনাম :
বেসামরিক নাগরিক ও পবিত্র স্থাপনায় হুথিদের হামলার নিন্দা সৌদি আলেম পরিষদের প্যারিসে দাঙ্গার মধ্যে চুরি হলো মেসির স্বাক্ষর করা একাধিক স্মারক বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, সই হতে পারে ৪ সমঝোতা স্মারক ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যে ৫ ফুটবলার মাদক-জুয়া বরদাশত করা হবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আলবার্টার বিচ্ছিন্নতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, কানাডার সঙ্গেই থাকতে চান ৭৭ শতাংশ ভোটার আজ থেকে টানা পাঁচদিন বন্ধ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু

পৃথিবীর নতুন সঙ্গী! নাসা জানালো এখন থেকে ২টি চাঁদ পৃথিবীর ২০৮৩সাল পর্যন্ত

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫

রেজুয়ানা বিনতে রেজা । বিজ্ঞান ডেস্ক।

নাসা নিশ্চিত করেছে যে, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা যে পাথরখণ্ডটি (গ্রহাণু) আবিষ্কার করেছেন, সেটি আসলে পৃথিবীর একটি ‘কোয়াজি-মুন’—অর্থাৎ এক ধরনের অস্থায়ী উপগ্রহ, যা পৃথিবীর সঙ্গে প্রায় একই কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।

এটি আমাদের প্রকৃত চাঁদ নয়, তবে পৃথিবীর গতির সঙ্গে প্রায় পুরোপুরি মিল রেখে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করায় দূর থেকে মনে হয় যেন এটি পৃথিবীর ছায়ার মতো সঙ্গে চলছে।

বিজ্ঞানীরা জানান, এই মহাজাগতিক বস্তুটির আকার খুব ছোট—প্রায় ১৮ থেকে ৩৬ মিটার চওড়া, অর্থাৎ একটি ছোট ভবনের উচ্চতার সমান। আকারে ছোট হলেও, এটি পৃথিবীর মহাকাশ প্রতিবেশে বিশেষ গুরুত্ব রাখে।

তবে চাঁদের মতো এটি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণে বাঁধা নয়। বরং একে বলা যায়—একজন দৌড়বিদের মতো, যে আপনার পাশে সমান তালে দৌড়াচ্ছে কিন্তু কখনো ছুঁয়ে যাচ্ছে না।

এই গ্রহাণুটির নাম “২০২৫ PN7”। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি প্রায় ৬০ বছর ধরে পৃথিবীর পাশে চলছে এবং বর্তমান কক্ষপথ ঠিক থাকলে ২০৮৩ সাল পর্যন্ত আমাদের সঙ্গেই থাকবে। এরপর এটি ধীরে ধীরে দূরে সরে গিয়ে মহাকাশে মিলিয়ে যাবে।

এর কাছাকাছি আসার সময় এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে—যা চাঁদের দূরত্বের প্রায় ১০ গুণ। আবার সবচেয়ে দূরে গেলে ১৭ মিলিয়ন কিলোমিটার পর্যন্ত সরে যায়। সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের মাধ্যাকর্ষণ টানের কারণেই এভাবে দূরে-সামনে দুলতে থাকে।

এই ছোট সঙ্গীকে খুঁজে বের করা মোটেও সহজ ছিল না। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী নিয়মিত টেলিস্কোপ জরিপের সময় আকাশে এক ক্ষীণ আলোর বিন্দু দেখতে পান। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সেটি পৃথিবীর সঙ্গে একই গতিতে সূর্যকে ঘুরছে। কয়েক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণের পর নাসা নিশ্চিত করে—আমাদের পৃথিবীর একটি নতুন অস্থায়ী মহাকাশ সঙ্গী পাওয়া গেছে।

এ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা মোট ৮টি কোয়াজি-মুন শনাক্ত করেছেন। প্রতিটি এমন আবিষ্কার পৃথিবীর আশেপাশের মহাকাশ ও গ্রহাণুর গতি সম্পর্কে নতুন ধারণা দেয়।

এই ধরনের গ্রহাণু শুধু কৌতূহল জাগানো নয়, বিজ্ঞানীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার ক্ষেত্র। এগুলো কাছাকাছি, তুলনামূলক স্থিতিশীল, এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের পরীক্ষামূলক স্থান হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

যদিও ২০২৫ PN7 কখনোই চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে না, তবুও এটি আমাদের সঙ্গে আছে—এক নিঃশব্দ ভ্রমণসঙ্গী, যে সূর্যকে ঘিরে পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঘুরছে, কক্ষপথের পর কক্ষপথ

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
Translate »