জেনেভা, ১৬ সেপ্টেম্বর : জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) সতর্ক করেছে যে গাজা সিটিতে তীব্র মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে, যেখানে ১০ হাজারেরও বেশি শিশু মারাত্মক অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়ে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তায় রয়েছে।
“গাজা সিটি থেকে পরিবারগুলোর জোরপূর্বক ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের জন্য প্রাণঘাতী হুমকি,” বলেন ইউনিসেফ মুখপাত্র টেস ইনগ্রাম, যিনি বর্তমানে দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি অঞ্চলে অবস্থান করছেন।
তিনি জানান, গাজা জুড়ে প্রায় ২৬ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে, যার মধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি শিশু শুধু গাজা সিটিতেই।
ইউনিসেফের আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় প্রতি আট শিশুর মধ্যে একজন মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে — যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ হার। গাজা সিটিতে এই হার আরও ভয়াবহ, যেখানে প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে একজন আক্রান্ত।
এই সপ্তাহে ইসরায়েলি সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ও সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে গাজা সিটির সব পুষ্টি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে।
ইসরায়েলি সেনারা দাবি করছে, দক্ষিণের আল-মাওয়াসি এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হলে সেখানকার মানুষ খাবার, ওষুধ ও তাঁবু পাবে। তবে ইউনিসেফ জানায়, প্রায় দুই বছর ধরে যুদ্ধ চলার সময় গাজার তথাকথিত “মানবিক অঞ্চলগুলোতেও” বারবার বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
“প্রায় অর্ধ মিলিয়ন শিশু, যারা ৭০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে নিরন্তর সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, তাদেরকে এক নরক থেকে আরেক নরকে পালাতে বাধ্য করা অমানবিক,” যোগ করেন ইনগ্রাম।
জাতিসংঘ জানায়, গাজা সিটি ও আশপাশের এলাকায় প্রায় এক মিলিয়ন মানুষ বসবাস করত, যার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট থেকে অন্তত ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ দক্ষিণে পালিয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১,২১৯ জন নিহত হয়েছিল, যাদের বেশিরভাগই ছিল বেসামরিক নাগরিক। এর জবাবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৪,৯৬৪ জন নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ তথ্যকে জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করছে।