কাঠমান্ডু, ১১ সেপ্টেম্বর : সাবেক নেপালি প্রধানমন্ত্রী ঝলনাথ খনালের স্ত্রী রবি লক্ষ্মী চিত্রকারের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। চলমান জেন জেড বিক্ষোভের মধ্যে তাঁর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গুরুতরভাবে দগ্ধ হওয়ার পর তাঁকে সংকটাপন্ন অবস্থায় কীর্তিপুর বার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
খনালের ব্যক্তিগত সচিব কৃষ্ণ ভট্টরাই কান্তিপুর দৈনিককে জানান, “ম্যাডামের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।” পরিবারের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা প্রথমে তাঁকে জোর করে বাড়ির ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়, এরপর আগুন ধরিয়ে দেয়।
সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারির পর শুরু হওয়া জেন জেড-নেতৃত্বাধীন সহিংস আন্দোলন বুধবার দ্বিতীয় দিনে প্রবেশ করে। যদিও সরকার পরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে, তবুও বিক্ষোভ থামেনি। এ পর্যন্ত অন্তত ২২ জন নিহত এবং ৩০০-রও বেশি আহত হয়েছেন।
বিক্ষোভকারীরা রাজধানী কাঠমান্ডুর প্রশাসনিক কেন্দ্র সিং দরবার ও রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন শীতল নিবাসসহ একাধিক সরকারি স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল, প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল ‘প্রচণ্ড’ ও শের বাহাদুর দেউবার বাসভবনেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
দেউবার বাসভবনে হামলার সময় তাঁর স্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অর্জু রানা দেউবার ওপরও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মধ্যে মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করেন। তাঁর সহকারী প্রকাশ সিলওয়াল গণমাধ্যমকে জানান, অলি রাজনৈতিক সমাধান বের করার স্বার্থে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেনাবাহিনীর সূত্র মতে, অলি সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের সঙ্গে কথা বলে সেনা সহায়তা চেয়েছিলেন। তবে সেনাপ্রধান তাঁকে পদত্যাগের পরামর্শ দেন এবং জানান, তিনি দায়িত্ব ছাড়লেই সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
উল্লেখ্য, কিছু স্থানীয় গণমাধ্যম আগে ভুলভাবে জানিয়েছিল যে রবি লক্ষ্মী চিত্রকার মারা গেছেন। তবে খনালের দফতর নিশ্চিত করেছে, তিনি এখনো জীবিত এবং চিকিৎসাধীন আছেন।