বুনের (পাকিস্তান): পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বুনের জেলায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা ২৭০ জন ছাড়িয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগের জবাবে সরকার বলছে, পরিস্থিতি এতটাই আকস্মিক ছিল যে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার ভয়াবহ মেঘফাটা ও টানা বর্ষণে পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির স্রোতে ঘরবাড়ি ধসে পড়ে, গ্রাম ডুবে যায় এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, ৫৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে চালানো তল্লাশিতে। এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
একই সময়ে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও প্রবল বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন।
বুনের দুর্গত বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, তাদের সময়মতো কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। সাধারণত দুর্গম এলাকায় মসজিদের লাউডস্পিকারে সতর্কতা প্রচার করা হয়, কিন্তু এবার তা হয়নি বলে জানান অনেকে।
একজন শিক্ষক, মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, “বেঁচে যাওয়া মানুষজন কিছুই সঙ্গে নিতে পারেনি। যদি আগে সতর্ক করা হতো, তাহলে প্রাণহানি কমানো যেত।”
ইসলামাবাদে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইনাম হায়দার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পাকিস্তানে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ধরণ পাল্টে গেছে। এ বছর জুনের শেষ থেকে শুরু হওয়া মৌসুমি বৃষ্টিতে ইতিমধ্যে গত বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক আসফানদইয়ার খান খাত্তাক বলেন, “বিশ্বের কোথাও এমন প্রযুক্তি নেই যা মেঘফাটা (cloudburst)-এর সঠিক সময় ও স্থান আগে থেকে জানাতে পারে।”
জরুরি সেবার মুখপাত্র মোহাম্মদ সুহাইল জানিয়েছেন, বুনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের অর্ধেকের বেশি আবার খুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে দুর্গম গ্রামে পৌঁছানো যায়। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকা থাকতে পারে।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনায়, কদর নগর গ্রামে একটি পরিবারের ২৪ জন সদস্য বিয়ের আগের রাতে স্রোতের পানিতে ভেসে মারা গেছেন। পরিবারের প্রধান উমর খান বেঁচে যান কেবলমাত্র ঘরের বাইরে থাকার কারণে। তার আরও চার আত্মীয় এখনও নিখোঁজ।
২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় পাকিস্তানে প্রায় ১,৭০০ জন মারা গিয়েছিলেন এবং লাখো মানুষ গৃহহীন হন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তান বিশ্ব উষ্ণায়নে দায়ী মাত্র ১ শতাংশেরও কম হলেও দেশটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।
তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় তীব্র ও ঘন ঘন মৌসুমি দুর্যোগ—যেমন আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ি ঢল, হিমবাহ ভেঙে যাওয়া ও মেঘফাটা—অল্প সময়ের মধ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনছে।
সরকার সতর্ক করেছে যে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।