নিউ ইয়র্ক: সুদানের র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সমান্তরাল সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়ায় কঠোর নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদ সতর্ক করে বলেছে, এই পদক্ষেপ সুদানের ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং চলমান গৃহযুদ্ধ আরও তীব্র করার ঝুঁকি তৈরি করছে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে ১৫ সদস্যের পরিষদ জানায়, এই একতরফা সিদ্ধান্ত দেশটিকে আরও বিভক্ত করবে এবং ভয়াবহ মানবিক সংকটকে আরও জটিল করবে।
“নিরাপত্তা পরিষদ সুদানের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি তাদের অটল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে,” বিবৃতিতে বলা হয়। পরিষদ আরও জানায়, এসব নীতি দুর্বল করে এমন যেকোনো পদক্ষেপ শুধু সুদানের ভবিষ্যতের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি।
পরিষদ সুদানের সব পক্ষকে অবিলম্বে আলোচনায় ফিরতে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়ায় সব রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিশ্বাসযোগ্য বেসামরিক নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে হবে, যা দেশটিকে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে এগিয়ে নেবে।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ, এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে দেশটি গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
পরিষদের বিবৃতিতে ২০২৪ সালের জুনে গৃহীত প্রস্তাব ২৭৩৬-এর উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে আরএসএফকে এল-ফাশারের অবরোধ তুলে নিতে ও লড়াই বন্ধ করতে বলা হয়েছে—যেখানে দুর্ভিক্ষ ও চরম খাদ্য সংকট লক্ষ লক্ষ মানুষকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
পরিষদ সদস্যরা এল-ফাশারে আরএসএফের নতুন হামলার প্রতিবেদন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সেখানে মানবিক সহায়তার জন্য অবাধ প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক সম্প্রতি এল-ফাশার ও নিকটবর্তী আবু শৌক শরণার্থী শিবিরে আরএসএফের বৃহৎ আকারের হামলার নিন্দা করেছেন, যাতে অন্তত ৫৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যে ৪০ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব হামলা জাতিগত নিপীড়নের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
টুর্ক আরও জানান, পূর্ববর্তী হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ড, ব্যাপক যৌন সহিংসতা, জোরপূর্বক গুম এবং নির্যাতনের মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান এসব নির্যাতন বন্ধে চাপ সৃষ্টির জন্য এবং দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করে সুদানে সহিংসতার চক্র ভাঙার জন্য।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সুদানের কোরদোফান অঞ্চলে সাম্প্রতিক হামলারও নিন্দা জানিয়েছে, যা বহু বেসামরিক প্রাণহানির কারণ হয়েছে। পরিষদ সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে।
পরিষদ উভয় পক্ষকে ২০২৩ সালের জেদ্দা ঘোষণার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে এবং জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সংঘাত ও অস্থিরতা বাড়াতে পারে এমন বাহ্যিক হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছে।
নিরাপত্তা পরিষদ সুদানের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত রামতানে লামামরার প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং যুদ্ধে লিপ্ত পক্ষ ও সিভিল সোসাইটির মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে তার প্রচেষ্টাকে প্রশংসা করেছে, যার লক্ষ্য সুদানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা।