গাজা সিটি: গাজা সিভিল ডিফেন্স সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা ও গুলিতে অন্তত ২৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৪ জনই খাদ্য সহায়তার জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় হামলার শিকার হন।
সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল এএফপিকে জানান, গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চল খান ইউনিসে সহায়তা সংগ্রহের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় আটজন ইসরায়েলি গুলিতে নিহত হন। এছাড়া কেন্দ্রীয় গাজায় একটি খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় আরও ছয়জন নিহত এবং ২১ জন আহত হন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এএফপিকে জানিয়েছে, তারা এই ঘটনাগুলোর তদন্ত করছে।
গাজার অনেক এলাকায় সাংবাদিক প্রবেশে বাধা এবং নিরাপত্তাজনিত জটিলতার কারণে স্বতন্ত্রভাবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রতিদিন হাজার হাজার গাজাবাসী বিভিন্ন খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে জড়ো হন, যার মধ্যে চারটি পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (GHF)। এই কেন্দ্রগুলোতে সহায়তা নিতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিনই গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর প্রায় ২২ মাস পরেও গাজায় খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানিসহ জরুরি পণ্যের প্রবেশে কড়াকড়ি থাকায় মানবিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় হাসপাতালগুলো জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছে।
বাসসাল জানান, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি তাঁবুতে রাতে চালানো বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত হন। আল-মাওয়াসিকে যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েল একটি “নিরাপদ অঞ্চল” হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা আদহাম ইউনুস বলেন, “তারা বলে এটা গ্রিন জোন, নিরাপদ। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। তারা বলে সহায়তা নেওয়া নিরাপদ, কিন্তু মানুষ মারা যাচ্ছে সহায়তা নিতে গিয়েই।”
তিনি আরও বলেন, “গাজার কোথাও কোনো নিরাপত্তা নেই। প্রতিটি মানুষ মৃত্যুর মুখোমুখি, প্রতিটি মানুষ আহত হওয়ার ঝুঁকিতে।”
মাহমুদ ইউনুস নামের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “আমরা নারীদের চিৎকার শুনেছিলাম তারা রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। পুরো পরিবার আহত হয়েছে।”
বাসসাল আরও জানান, গাজা সিটির কাছাকাছি একটি হামলায় ছয়জন এবং খান ইউনিসের কাছে আরেকটি হামলায় একজন নিহত হন।
এদিকে, হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জেদিন আল-কাসসাম ব্রিগেড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ গাজার ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত মোরাগ করিডোরে অবস্থিত একটি ইসরায়েলি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।
গাজা জুড়ে যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় মানবিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে, আর বেসামরিক নাগরিকেরা প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকিতে পড়ছেন।







