ঢাকা: মালয়েশিয়ায় সাধারণ কর্মী (General Worker) নিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাম্প্রতিক এক বিজ্ঞপ্তি ঘিরে দেখা দিয়েছে জোরালো বিতর্ক ও বিভ্রান্তি। বিজ্ঞপ্তিতে ‘সত্যায়ন প্রক্রিয়া’ শুরুর কথা উল্লেখ থাকলেও মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এমন কোনো সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি বলে একাধিক সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
দূতাবাসের এই পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং অভিবাসন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি ভুয়া আশার জন্ম দিচ্ছে।
পিবিএন সংবাদের সাথে আলাপকালে এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “মান্যবর হাইকমিশনারের উচিত বিষয়টি দ্রুত পরিষ্কার করা, কারণ দূতাবাসের ওই বিজ্ঞপ্তি দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। অনেকে ধরে নিচ্ছেন মালয়েশিয়া সরকার নতুন করে শ্রমবাজার খুলেছে, অথচ বাস্তবে এখনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেই।”
তাঁর মতে, “বিজ্ঞপ্তিটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। ফলে এই ধরনের বার্তা শুধু জনমনে বিভ্রান্তি নয়, অসাধু দালালদের হাতেও সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে।”

হাইকমিশনার শামীম আহসানের সঙ্গেও হোয়াটস্যাপ-এর মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা -ছবি
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, দূতাবাস কেন এমন একটি ঘোষণার সাহস দেখালো যার পেছনে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত নীতিগত অনুমোদন নেই? এমনকি হাইকমিশনার শামীম আহসানের সঙ্গেও যোগাযোগ করে সুনির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি ।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, “আমরা মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। এখনো আলোচনা পর্যায়েই আছি, কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখনই প্রয়োজন একটি পরিস্কার ও দায়িত্বশীল ব্যাখ্যা। সাংবাদিক মহল থেকেও দাবি উঠেছে, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হোক, যাতে দেশবাসী ও সম্ভাব্য অভিবাসনপ্রত্যাশীরা সঠিক তথ্য জানতে পারেন এবং প্রতারিত না হন।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভ্রান্তিকর এই পরিস্থিতি নিরসনে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।








