শিরোনাম :
গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে কুয়ালালামপুরে মালয়েশীয়দের বিক্ষোভ মাহা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর, গুরুত্ব পাবে সীমান্ত নিরাপত্তা ও যোগাযোগ কাম্পার ও কুয়ালা কাংসারে পৃথক ক্যাবল চুরির মামলায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ এয়ার ইটাম সশস্ত্র সংঘর্ষ: পেনাং এবং সেলাঙ্গরে অভিযানের পর গ্রেপ্তার আরও ১০ ACC to seek UAE data on Dubai assets of 73 Bangladeshis ইন্দোনেশিয়ায় মালয়েশীয় সহকারী পাইলট গ্রেফতার: দেশজুড়ে অভিযানে ৬ সহযোগী আটক মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ৯৯% কেবিন ক্রু মাদকমুক্ত: পরীক্ষা সম্পন্ন মালয়েশিয়ায় বিমানবন্দর নিরাপত্তায় বড় উদ্যোগ, নতুন নিয়মে কড়াকড়ি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার রাজার সাক্ষাৎ

লেবানন থেকে অন্তত ২ লাখ সিরীয় শরণার্থীর প্রত্যাবাসনের আশা করছে জাতিসংঘ, চালু হয়েছে নতুন প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫

বেইরুত: জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR আশা প্রকাশ করেছে যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ লেবানন থেকে কমপক্ষে ২ লাখ সিরীয় শরণার্থী স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাবেন। এই প্রত্যাবাসন ঘটবে একটি নতুন সরকার-সমর্থিত পরিকল্পনার আওতায়, যা ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে।

UNHCR-এর লেবানন প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বপালন শেষে বিদায় নেওয়া ইভো ফ্রেইজেন বৃহস্পতিবার Associated Press-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সিরিয়ায় দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর শরণার্থীদের মধ্যে ফেরার আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

“আগে মাত্র ১ শতাংশ শরণার্থী দেশে ফেরার কথা ভাবতেন। এখন এই সংখ্যা বেড়ে ২৪ শতাংশ হয়েছে, যারা আগামী ১২ মাসে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন বা পরিকল্পনা করছেন,” বলেন ফ্রেইজেন।

২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে গত ১৪ বছরে দেশটির প্রাক-যুদ্ধকালীন ২ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার অর্ধেকই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রতিবেশী লেবানন শরণার্থীদের অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে, যেখানে এক সময়ে ১৫ লাখেরও বেশি সিরীয় শরণার্থী অবস্থান করছিল। বর্তমানে সেখানে এখনও অন্তত ১০ লাখ সিরীয় শরণার্থী রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।

আগে UNHCR বলেছিল সিরিয়া নিরাপদ নয় ফিরে যাওয়ার জন্য, তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর এবং শরণার্থীদের আগ্রহ বাড়ায় সংস্থাটি নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

ইভো ফ্রেইজেন জানান, ইতোমধ্যেই ১.২ লাখের বেশি শরণার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিরিয়ায় ফিরে গেছেন, কোনও আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়াই।

বর্তমানে বাস্তবায়িত নতুন স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন পরিকল্পনায় রয়েছে:

প্রত্যাবাসনকারী প্রত্যেক পরিবারের সদস্যকে $১০০ সহায়তা প্রদান, বাসে নিরাপদ পরিবহন, লেবানন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাসস্থান ও আইনি ফি মওকুফ, সীমান্ত পার হওয়ার পর আইনি সহায়তা, নথিপত্র সংগ্রহ, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও জরুরি ত্রাণ।

এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার সিরীয় শরণার্থী এই পরিকল্পনায় নাম লিখিয়েছেন, যাদের অনেকেই নিজেদের গাড়িতে ফেরার পথ বেছে নিচ্ছেন। এই সপ্তাহে মাসনা সীমান্ত দিয়ে ৭২ জন শরণার্থীর একটি পরীক্ষামূলক যাত্রাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

“আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ৪ লাখ শরণার্থীকে প্রত্যাবাসন, তবে ২ থেকে ৪ লাখের মধ্যে কিছু হলে তাও হবে অত্যন্ত ইতিবাচক ফলাফল,” বলেন ফ্রেইজেন

যদিও নতুন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারআ-র অধীনে সিরিয়া আরব এবং পশ্চিমা দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করেছে, তবুও দেশটির অর্থনীতি ভেঙে পড়া অবস্থায় রয়ে গেছে। জাতিসংঘ বলছে, দেশটিকে পুনর্গঠনের জন্য শত শত বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।

৯০ শতাংশের বেশি নাগরিক এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছেন, এবং অনেক অঞ্চলেই এখনো সম্পূর্ণ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়নি। এরই মধ্যে জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থা বাজেট সংকোচনের কারণে তাদের কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে।

ফ্রেইজেন সতর্ক করেন,

“অনেকেই সংগ্রামের মধ্যেও ফিরতে প্রস্তুত, তবে শর্ত একটাই—জীবিকা নির্বাহের সুযোগ থাকতে হবে। আর এখনো তা সহজ নয়।”

এই নতুন পরিকল্পনা সিরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকটের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সুযোগ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর, যা এখনো অনেকটাই অনিশ্চিত।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »