রিয়াদ, ২৩ জুলাই : গাজায় চলমান যুদ্ধ অবসানের জন্য ২৮টি দেশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, গাজার মানবিক সংকট এখন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং যুদ্ধ এখনই শেষ হওয়া উচিত।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়,
“আমরা ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অনৈতিক ও অমানবিক পন্থার—বিশেষ করে ত্রাণ সহায়তা বন্ধ রাখা ও ত্রাণ নিতে যাওয়া বেসামরিক মানুষদের টার্গেট করার—প্রকট বিরোধিতা করছি।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্রসহ মোট ২৮টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ বিবৃতিতে বলেন,
“গাজার জনগণের দুর্ভোগ এখন অতল গহ্বরে পৌঁছেছে।”
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়,
“গাজার জনগণ তাদের ন্যূনতম চাহিদা—খাবার ও পানির—জন্য জীবন দিচ্ছে। ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে ধীরগতিতে, আর বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা এক অমানবিক চিত্র তুলে ধরছে।”
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৮০০’র বেশি ফিলিস্তিনি ত্রাণ নেওয়ার সময় ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রাণ হারিয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,
“ইসরায়েলের এই তথাকথিত ত্রাণ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বিপজ্জনক, অস্থিতিশীলতা বাড়ায় এবং গাজার জনগণের মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের শামিল।”
অপরদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই যৌথ বিবৃতিকে “বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন” ও “হামাসকে ভুল বার্তা দেওয়া” বলেই উল্লেখ করেছে।
ইসরায়েলের দাবি, তারা যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত, কিন্তু হামাস একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ও জিম্মিদের মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছে।
যুদ্ধের ২২তম মাসে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও পূর্ণাঙ্গ মানবিক সহায়তা প্রবেশের দাবিতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে।
সৌদি আরব বারবার ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং দখলদারিত্বের অবসান চেয়েছে। মঙ্গলবারের বিবৃতিতেও দেশটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—নিরীহ মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।