তেহরান, ২০ জুলাই : সম্প্রতি মার্কিন সমর্থিত ইসরায়েলি আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনরায় প্রতিস্থাপন ও সক্রিয় করেছে ইরান, জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা।
রবিবার ইরানের সেনাবাহিনীর অপারেশন বিভাগের উপ-প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহমুদ মুসাভি বলেন, ইসরায়েলের ১২ দিনব্যাপী “কাপুরুষোচিত হামলায়” ইরানের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল প্রধান লক্ষ্য, তবে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা ডিউটিতে থেকে আক্রমণের মোকাবিলা করেছেন।
“সিয়োনিস্ট শত্রুর লক্ষ্য ছিল আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধ্বংস করা। কিছু ব্যবস্থা আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, আমার সহকর্মীদের প্রচেষ্টায় সেগুলো পুনঃস্থাপন করে নির্ধারিত স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে,” বলেন মুসাভি।
তিনি আরও জানান, নতুন ও বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান তার আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং শত্রু তাদের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
মুসাভি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল এই যুদ্ধে একা ছিল না; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো দেশগুলো তাদের গোয়েন্দা সহায়তা ও অন্যান্যভাবে সরাসরি সহযোগিতা করেছে।
“ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষমতা, এই অবৈধ সিয়োনিস্ট শাসকের মোকাবিলা করার চেয়েও অনেক বেশি। কিন্তু এদের পেছনে থাকা শক্তিগুলো—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র—তাদের সহায়তা দিয়ে এই অপরাধে জড়িত হয়ে পড়েছে,” তিনি বলেন।
তিনি আরও বলেন, গত মাসের আগ্রাসনের সময় ইরানি জনগণ তাদের সশস্ত্র বাহিনীর পাশে থেকে ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
উল্লেখ্য, ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানে একটি অঘোষিত ও উসকানিমূলক হামলা চালায়, যাতে অন্তত ১,০৬০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে সামরিক কমান্ডার, পরমাণু বিজ্ঞানী ও সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন।
এর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করে, যা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে তেহরান।
এর জবাবে, ইরান ইসরায়েল অধিকৃত ভূখণ্ডের কৌশলগত অবস্থান ও কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় — যেটি পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি।
২৪ জুন ইরান জানায়, তাদের সফল পাল্টা অভিযানের ফলে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ সন্ত্রাসী আগ্রাসন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
তেহরান জানিয়েছে, চলমান হুমকি মোকাবিলায় তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করা হবে এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।