গাজা, ২০ জুলাই — ইসরায়েলের কঠোর অবরোধ এবং মানবিক সহায়তা বন্ধের ফলে গাজা উপত্যকায় একদিনেই তৃতীয়বারের মতো এক ফিলিস্তিনি শিশু অনাহারে মারা গেছে। শনিবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে মারা যায় নবজাতক ইয়াহিয়া আল-নাজ্জার, যার শরীর ছিল মারাত্মক অপুষ্টির চিহ্নে ভরা।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার ছবি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গাজাভিত্তিক সাংবাদিক আহমেদ আল-নাজ্জার এক্স-এ (টুইটার) লিখেছেন, “এটা নবজাতক ইয়াহিয়া আল-নাজ্জার। ইসরায়েলের বাধ্যতামূলক অনাহার আজ তাকে কেড়ে নিয়েছে।”
তিনি আরও লেখেন, “আমরা চিৎকার করি, আমাদের শিশুরা কান্না করে পৃথিবীর কাছে—কিন্তু কোনো উত্তর নেই।”
আরেক গাজা-সাংবাদিক মোতাসেম এ. দাল্লৌল সতর্ক করে বলেন, “যদি গাজায় খাদ্য প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া হয়, তবে ২৩ লাখ মানুষ একই পরিণতির পথে রয়েছে।”
একজন প্রো-প্যালেস্টাইন ব্লগার লিখেছেন, “ওর ক্ষুদ্র শরীরটাকে বাঁচাতে মাত্র এক চুমুক দুধই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু সে না খেয়ে মারা গেল। অপেক্ষা করতে করতে মারা গেল।”
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ইয়াহিয়াকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পুষ্টিসেবা হাসপাতালের ছিল না—যা অবরোধের কারণে ভয়াবহভাবে সংকুচিত হয়েছে।
শনিবার ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজা জুড়ে মোট ১১৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৮ জন নিহত হন রাফাহ শহরের তথাকথিত ‘খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রের’ আশপাশে, যেখানে হাজারো অনাহারক্লিষ্ট মানুষ খাদ্যের আশায় ভিড় করেছিলেন।
জাতিসংঘের মতে, এই কেন্দ্রগুলো এখন কার্যত “মৃত্যুকূপ”-এ পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিনিয়ত ইসরায়েলি হামলার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
২০০৭ সাল থেকে আরোপিত অবরোধ আরও চরমে পৌঁছেছে, ফলে গাজার খাদ্য সরবরাহ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল সুপরিকল্পিতভাবে অনাহারকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে—যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৫৮,৭০০-রও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
ইয়াহিয়া আল-নাজ্জারের মৃত্যু গাজার মানবিক সংকটের ভয়াবহতা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। পর্যাপ্ত খাদ্য, চিকিৎসা ও সহায়তা ছাড়াই পুরো উপত্যকা এখন ধ্বংসপ্রায়।
বিশ্ব যখন নীরব, তখন গাজার শিশুরা ক্ষুধা আর বোমার আঘাতে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।
“যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে অনাহারই হবে গাজার পরবর্তী গণহত্যার হাতিয়ার,” সতর্ক করছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো।