ঢাকা, ২০ জুলাই: পশ্চিম তীরের খ্রিস্টান অধ্যুষিত ফিলিস্তিনি শহর তায়বেহতে একটি গির্জা ও কবরস্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এ ঘটনাকে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” আখ্যা দিয়ে দোষীদের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হাকাবি বলেন, “এটা সন্ত্রাসবাদ, এটা অপরাধ। যারা তায়বেহ শহরে বা অন্য কোথাও এ ধরনের সন্ত্রাস ও সহিংসতায় লিপ্ত হয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের বরাতে জানা গেছে, ৮ জুলাই একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ঐতিহাসিক এক গির্জা এবং সংলগ্ন কবরস্থানে আগুন লাগিয়ে দেয়। ঐতিহাসিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতীক এই শহরে এমন হামলায় শহরের অধিবাসীদের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হাকাবির বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গভর্নর এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহচর হওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলি বসতির কট্টর সমর্থক হিসেবেও পরিচিত। ফলে তার পক্ষ থেকে সরাসরি “সন্ত্রাসবাদ” শব্দটি ব্যবহার বিরল এবং শক্ত বার্তা বহন করে।
এর আগে ১৬ জুলাই, পশ্চিম তীরে এক ফিলিস্তিনি-মার্কিন নাগরিক বসতিবাদীদের হাতে নিহত হওয়ার পরেও একইভাবে এটিকে “সন্ত্রাস ও অপরাধ” বলে অভিহিত করেছিলেন হাকাবি।
ইসরায়েল সরকার এখনো পর্যন্ত তায়বেহর ঘটনায় আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে অতীতে বসতিবাদী সহিংসতার কিছু ঘটনায় তারা নিন্দা প্রকাশ করলেও, বিচারপ্রক্রিয়া বা শাস্তির বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি ছিল না।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত ১৯৬৭ সালে দখল করা পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গোলান মালভূমিতে গড়ে ওঠা ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু ইসরায়েল এই রায় মানে না এবং এসব এলাকার প্রতি ঐতিহাসিক, ধর্মীয় এবং নিরাপত্তাগত দাবি তুলে ধরে।
বিশেষ করে তায়বেহর ঘটনায় আন্তর্জাতিক খ্রিস্টান সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের খ্রিস্টানরা রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। গির্জাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হলে এই সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব আরও হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দোষীদের বিচার এবং ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।