নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলের বেনু রাজ্যে চলতি সপ্তাহে সন্দেহভাজন যাযাবর রাখালদের (পশুপালক) চালানো দুটি হামলায় অন্তত ৫৬ জন নিহত হয়েছে। শনিবার (১৯ এপ্রিল) দেশটির স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা।
এর আগে প্রশাসন ১৭ জন নিহতের তথ্য জানিয়েছিল। তবে শনিবার এ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৬ জন হয়েছে বলে জানানো হয়।
একজন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনও উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। ফলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ধরনের সহিংসতা গত কয়েক বছরে শত শত মানুষের প্রাণ নিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র আনে সেউইসে ক্যাথেরিন এক বিবৃতিতে জানান, ‘রাতারাতি বেনু রাজ্যের একটি অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক সন্দেহভাজন মিলিশিয়া এ হামলা চালায়।’
তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে কাছাকাছি এক অঞ্চলে একই সময়ে আরেকটি হামলা হয়, পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর আগেই ১২ জন নিহত হন।’ ঘটনাটি পশুপালক (রাখাল) ও স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সহিংসতা শুরুর প্রেক্ষিতে ঘটেছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ জানায়, প্রথম ঘটনাস্থলের প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের লোগো এলাকায় দ্বিতীয় হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলাকারীদের প্রতিরোধ করতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হলে তারা আকস্মিকভাবে কৃষকদের ওপর গুলি চালায়। এতে বেনুর উকুম এলাকায় পাঁচ কৃষক নিহত হন।
এ ঘটনার মাত্র দুই দিন আগেই বেনুর ওটুকপো এলাকায় ১১ জনকে হত্যা করা হয় এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই পার্শ্ববর্তী প্লাটো রাজ্যে সশস্ত্র হামলায় ৫০ জনেরও বেশি নিহত হয়।
মূলত মুসলিম ফুলানি পশুপালক ও খ্রিষ্টান বেরম ও ইরিগও জাতিগোষ্ঠীর কৃষকদের মধ্যে সংঘটিত হয় এই সংঘর্ষ। তবে এটি কেবল ধর্মীয় সহিংসতা নয় বলে মত বিশ্লেষকদের। তাদের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তন ও চারণভূমির অভাব এই সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলছে।
গবেষণা সংস্থা এসবিএম ইন্টেলিজেন্স-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে এই যাযাবর পশুপালক ও কৃষক সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে ৫০০ জনেরও বেশি প্রাণহানি ঘটেছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে ২২ লাখ মানুষ।