ক্ষমতাসীন সরকারের পদত্যাগের প্রশ্নে কোনোরকম আপস না করতে দলের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের একদফা দাবিতে নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করতে বলেছেন তিনি। সম্প্রতি বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দুই নেতা দেখা করতে গেলে খালেদা জিয়া তাদের মাধ্যমে এই বার্তা দিয়েছেন। আন্দোলন জোরদারে ব্যর্থ হলে দলীয় নেতাদের দায়িত্বে থাকা নিয়েও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, দলের শীর্ষ পর্যায়ের দুজন নেতা আলাদাভাবে খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় যান। তারা দলীয় চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তাকে চলমান আন্দোলন ও সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় অবহিত করেন। এ সময় খালেদা জিয়া নানা বিষয়ে তার মতামত তুলে ধরেন এবং দল ও আন্দোলন পরিচালনায় নানা নির্দেশনা দেন।
বিএনপি ঘোষিত একদফার আন্দোলন সম্পর্কে খালেদা জিয়ার সাফ কথা, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে একদফা আন্দোলনে কোনো ছাড় নয়। সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে, তা আরও জোরদার করতে হবে।
তিনি মনে করেন, ঠিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারলে ফলাফল আসবে, আন্দোলনেই দাবি আদায় করা সম্ভব। দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে এক দফার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
নির্দেশনা দেওয়ার সময় খালেদা জিয়া বিএনপির ওই শীর্ষ দুই নেতাকে বলেন, ‘যদি আন্দোলন জোরদার করতে না পারেন, তাহলে দায়িত্বে থাকার দরকার কি? আপনারা না পারলে অন্য কাউকে দায়িত্বে আনতে হবে।’
দলীয় নেতাদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া আরও বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো গণভিত্তি নেই। তারা দেশের জনগণ থেকে শুধু বিচ্ছিন্ন নয়, বহির্বিশ্ব থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দেশের জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। তারা পরিবর্তন চায়। অতএব দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে এই সরকারকে বিদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন আরও জোরালো করতে হবে। আন্দোলনেই এই সরকারকে বিদায় করতে হবে।’
এর আগে গত ২৯ জুন ঈদুল আজহার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে তার বাসভবন ফিরোজায় যান। সেখানে রাজনীতি নিয়ে তেমন কথাবার্তা না হলেও কুশল বিনিময়ের একপর্যায়ে স্থায়ী কমিটির এক নেতা চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ তোলেন। তখন বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলন সঠিক পথে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া।
স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন চালিয়ে যান, এবার ফলাফল আসবে। ঠিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারলে সরকার দাবি মানতে বাধ্য হবে।’
ওই সময় দলের একজন খালেদা জিয়াকে আবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এর জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জনসম্পৃক্ত আন্দোলনে এই সরকারকে বিদায় করতে পারলে সেটাই হবে বড় অর্জন। কে কী হবে, পরেরটা পরে। আপনারা আন্দোলন চালিয়ে যান।’
তারও আগে গত ৮ মে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে ফিরোজায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। এ সময় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে দেশের মানুষকে তা বয়কটের আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।