পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি চিকিৎসকদের জাতীয় পেশাজীবী সংগঠন সোসাইটি অব স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টস (এসএসএলটি) এর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার সাভারের সিআরপিতে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং সাধারণ সদস্যরা অংশ নেন।
সভায় সংগঠনের সাংগঠনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিলে (বিআরসি) স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়টি। সংগঠনের নেতারা একে পেশাটির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আইনি স্বীকৃতির পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে পেশাটির জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। সংগঠনের অখণ্ডতা, জবাবদিহি ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গঠনতান্ত্রিক সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, এ অর্জন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়। এটি সংগঠনের সব সদস্যের ঐক্য, আস্থা ও নিরলস প্রচেষ্টার ফল। তাঁরা গঠনতন্ত্র ও নীতিমালার প্রতি দায়বদ্ধ থেকে পেশাগত মানোন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় নিবন্ধন-সংক্রান্ত আইনি বিষয় এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কেও সদস্যদের অবহিত করা হয়।
সভায় আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এসএসএলটি নৈতিক অবস্থান ও পেশাগত মান বজায় রেখে কাজ করে আসছে। এ ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে গঠনতান্ত্রিক কিছু নিয়ম-নীতির সংশোধন ও পরিমার্জনের বিষয়ে আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ফিদা আল শামস। সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা সুলতানা ও কোষাধ্যক্ষ রাজু আহমেদ সজীব সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নির্বাহী সদস্য মো. সাজ্জাদ হোসেন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা সিনিয়র ও জুনিয়র স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে সভাটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। শেষে পেশাগত মানোন্নয়ন ও সংগঠনের অগ্রগতিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘটে।