মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত ওয়ান স্টপ সেন্টার (ওএসসি) পরিচালনার পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়-কেএসইউএমএ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিদেশি কর্মী কোটার সব আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে গ্রহণ করা হবে।
মানবসম্পদমন্ত্রী আর. রামানান সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ১ জুলাই মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বিদেশি কর্মী নিয়োগব্যবস্থায় সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিবাসী শ্রমিকনির্ভর শিল্পগুলোর কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন থেকে বিদেশি কর্মী কোটার সব আবেদন ফরেন ওয়ার্কার সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এর ই-কোটা মডিউলের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। এটি বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থাপনায় সরকারের একমাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
রামানানের মতে, নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে না। পুরো প্রক্রিয়া হবে আরও দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ। তিনি জানান, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার সোর্স কোড ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে কেএসইউএমএর অধীনে রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে অনুমোদিত ১৫টি উৎস দেশের মধ্যে ১২টি দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম চালু রয়েছে। দেশগুলো হলো: বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা ও লাওস। অন্যদিকে উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তান বর্তমানে নিষ্ক্রিয় তালিকায় রয়েছে।
তিনি জানান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইও এখন পুরোপুরি অনলাইনে করা হচ্ছে। এর ফলে স্বচ্ছতা বাড়বে, আবেদন নিষ্পত্তির সময় কমবে এবং দালাল বা তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের সুযোগ কমে যাবে।
এ পর্যন্ত ৫৪৮টি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মোট ২২ হাজার ৪৭৬টি কোটা আবেদন জমা পড়েছে।
রামানান বলেন, এখন থেকে কোটা অনুমোদন আর পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে না। প্রতিটি আবেদন একই মানদণ্ড অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার যাচাই, অংশীজনদের মতামত এবং ওয়ান স্টপ সেন্টারের মূল্যায়নের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।