ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পাঁচ দিনের মাথায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার উদ্ধার প্রচেষ্টার পঞ্চম দিন সরকারি হিসাবে দেখা গেছে, প্রায় ২০০ ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে আর কয়েকশ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি আহতের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
দেশটিতে গত বুধবার রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানে। এতে প্রায় আটশ ভবন ধসে পড়ে, যার ফলে বহু মানুষ ভবনের নিচে আটকা পড়ে যান। এরমধ্যেই ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের নেতা জর্জ রদ্রিগেজ গতকাল সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে আহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫ হাজার ৩৪–এ পৌঁছেছে। এ ছাড়া ১৫ হাজার ৮৬৬ জন মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ ৩০টি দেশের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার কথা জানিয়েছে। কতজন মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা, তা স্পষ্ট নয়। নিখোঁজদের সন্ধানে খোলা ওয়েবসাইটগুলোর তথ্যমতে, প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হতাহতদের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার পেছনে সম্ভবত কয়েক দশকের অবহেলা, ভবন নির্মাণ বিধিমালা (বিল্ডিং কোড) প্রয়োগে শিথিলতা এবং সাবেক নেতা হুগো চাভেজ ও নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলে লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রভাব রয়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী সংস্থার বেশিরভাগ কার্যক্রম বর্তমানে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে কেন্দ্রীভূত। তবে ভয়াবহ ভূমিকম্পের কয়েকদিন পরও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ ও সমন্বিত সরকারি সহায়তা না পৌঁছানোয় ভেনেজুয়েলাজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, সরকারের উপস্থিতি খুবই সীমিত এবং উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে।